
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় দশম শ্রেণির এক কিশোরীর পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি হামলায় ঘটনায় উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কিশোরীর পরিবারের ভাষ্য, বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এবং মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আত্মরক্ষার্থে তারা প্রতিহত করার চেষ্টা করে।
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় রাকিব মিয়া নামের এক তরুণ প্রতিবেশী দশম শ্রেণির এক কিশোরীকে পছন্দ করেন। একপর্যায়ে ওই কিশোরীকে বিয়ে করার জন্য তার পরিবারে প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু কিশোরীর পরিবার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। বিষয়টি নিয়ে বিরোধের জের ধরে কিশোরীর পড়াশোনা বন্ধ করে দেয় পরিবার।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কিশোরীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন রাকিব। কিন্তু দেখা করতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে রাকিব কিশোরীর বাড়ির সামনের রাস্তায় যান এবং কিশোরীর পরিবারকে উদ্দেশ করে গালাগাল শুরু করেন। এ সময় কিশোরীর পরিবার রাকিবের গালাগালের প্রতিবাদ করে। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা–কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে উভয়পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে এই ঘটনার জেরে রাকিবের পরিবারের লোকজন লাঠিসোঁটা, দা, ছুরি, রামদা, কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কিশোরীদের পক্ষের পাঁচটি বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা কিশোরীর পরিবারে ব্যাপক ভাঙচুরসহ নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও একটি নতুন মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষ ও হামলায় উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। তাঁরা বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনেরা।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, এক ছেলে গ্রামের এক কিশোরীকে বিয়ে করতে চায়, কিন্তু মেয়েপক্ষ বিয়ে দেবে না বলে জানিয়েছে। এ নিয়েই সংঘর্ষ হয়েছে। তবে এ ঘটনায় আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে রাকিব মিয়া ও তাঁর পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ওই কিশোরীর এক চাচি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে তাঁর ভাতিজিকে রাকিব উত্ত্যক্ত করত। তাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে। তাই দুই মাস ধরে ওই কিশোরীর বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ রয়েছে। গতকাল দুপুরে ভাতিজির মাকে এসে বকাবকি শুরু করে রাকিব। বকাবকির কারণ জানতে চাইলে রাকিব আরও রাগান্বিত হয়। গতকাল রাতে রাকিবরা পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে হামলা চালায়।’