ঘুষ
ঘুষ

ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ফেসবুকে, নির্বাচন কর্মকর্তাকে বদলি

ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন অফিসে বদলি করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে এক সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে খবিরুল আলমের টাকা গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেক মোহাম্মদ জালালুর রহমান তাঁকে শোকজ করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলেন। খবিরুল আলম গতকাল মঙ্গলবার শোকজের জবাব জেলা কার্যালয়ে জমা দেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জবাবসহ প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠান।

আমি ব্রেন টিউমারে অসুস্থ ছিলাম। নির্বাচন কর্মকর্তাকে বলার পরও তিনি নানা অজুহাতে আমাকে তিন-চার দিন অফিসে ঘুরান। পরে টাকা দেওয়ার পর তিনি আমার জাতীয় পরিচয়পত্র কার্ড করে দেন। শুধু আমি নই, এ অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। টাকা না দিলে অফিসের অন্যরাও দুর্ব্যবহার করেন।
রাসেল মোল্লা, ভুক্তভোগী

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেক মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, আজ দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ওই কর্মকর্তাকে ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আরও ব্যবস্থা গ্রহণ হতে পারে।

বদলির বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে আমি কোনো কথা বলতে পারব না।’

১০ সেপ্টেম্বর নতুন ভোটার আইডি কার্ডের জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যান বাহরাইনপ্রবাসী উপজেলার উজানচরের বাসিন্দা রাসেল মোল্লা। এ সময় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম এ কাজের জন্য পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ সময় অনেক আকুতি-মিনতি করে তাঁকে দুই হাজার টাকা দেন রাসেল মোল্লা। এ সময় তিনি কৌশলে টাকা প্রদানের ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেন।

বাহরাইনপ্রবাসী রাসেল মোল্লা বলেন, ‘আমি ব্রেন টিউমারে অসুস্থ ছিলাম। নির্বাচন কর্মকর্তাকে বলার পরও তিনি নানা অজুহাতে আমাকে তিন-চার দিন অফিসে ঘুরান। পরে টাকা দেওয়ার পর তিনি আমার জাতীয় পরিচয়পত্র কার্ড করে দেন। শুধু আমি নই, এ অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। টাকা না দিলে অফিসের অন্যরাও দুর্ব্যবহার করেন।’

অভিযোগ রয়েছে, দালাল চক্রের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকটি কম্পিউটার দোকানদার জড়িত। তাঁদের হাতে টাকা দিলেই মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যায় নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে। নতুন জাতীয় পরিচয়পত্র করে দেওয়া, নামের ভুল বানান সংশোধন করা, বাবা ও মায়ের নাম সংশোধন করাসহ যাবতীয় কাজ খুব সহজে হয়ে যায়। একেকটি কাজে তাঁরা সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার টাকা থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি জরুরি ভিত্তিতে বিদেশে যাওয়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ভোটার আইডি করেছি। এই অফিসে কেউ টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে না।’