
চট্টগ্রাম শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলাচলকারী একটি শাটল ট্রেনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সেটি ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট দেরিতে ক্যাম্পাসে পৌঁছায়। এতে ট্রেনে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকে নির্ধারিত সময়ে ক্লাসে যোগ দিতে পারেননি।
আজ বুধবার শহরের ষোলশহর স্টেশন থেকে সকাল সাড়ে নয়টার ট্রেনটি ক্যাম্পাসের উদ্দেশে ছাড়ার কথা ছিল। তবে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এটি ৯টা ৫০ মিনিটে ষোলশহর স্টেশনে পৌঁছায়। এরপর সকাল ১০টার পর ট্রেনটি ছাড়ে। ফতেয়াবাদ স্টেশনে এসে ট্রেনটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। পরে অন্য একটি ইঞ্জিনের সহায়তায় ট্রেনটি আবার চালু করা হয়। সবশেষে শাটল ট্রেনটি বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে ক্যাম্পাসে পৌঁছায়।
অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুহতাসিম মাহমুদ বলেন, ‘ফতেয়াবাদ পার হওয়ার পর ট্রেনটি হঠাৎ থেমে যায়। পরে অন্য একটি ইঞ্জিন এসে ট্রেনটি নিয়ে যায়। ফলে ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে বেলা ১১টা ৩৫ মিনিট বেজে যায়। যার কারণে আমার দুটি ক্লাস মিস হয়।’
শাটল ট্রেনের এমন ভোগান্তি নিত্যদিনের বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। সমাজতত্ত্ব বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নূরনাহার সিকদার বলেন, ‘শাটল ট্রেনের ভোগান্তি এখন প্রতিদিনকার বিষয়। আজও পরীক্ষায় দেরি করে উপস্থিত হতে হয়েছে। তীব্র রোদের মধ্যে দীর্ঘ অপেক্ষা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।’
ট্রেনের এই সমস্যা নিয়মিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঞা। তিনি বলেন, ‘আজ ইঞ্জিন বিকলের কারণে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষায় দেরি করেছেন। বিষয়টি জানার পর আমরা রেলওয়েকে অবগত করেছি। তারা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সাঈদ বিন কামাল বলেন, ‘ইঞ্জিন বিকলের বিষয়টি আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নিয়মিত যোগাযোগ করছে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’
চট্টগ্রাম বটতলী স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. আবু জাফর বলেন, ‘ইঞ্জিনের ঘাটতির কারণে আমরা ভোগান্তির মধ্যে আছি। এর প্রভাব শাটল ট্রেনেও পড়ে। বর্তমান ইঞ্জিন ও ট্রেনগুলো সংস্কার করে সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে উদ্যোগ প্রয়োজন।’