
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, সংবাদমাধ্যম বিবেকের আলোকে সত্য তুলে ধরবে এবং মিথ্যার সঙ্গে আপস করবে না। একটি দেশে সংবাদমাধ্যম সোজা হয়ে কাজ করলে সেখানে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে না।
শুক্রবার বিকেলে মুন্সিগঞ্জ শহরের পুরাতন কাচারি এলাকার একটি পার্টি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত বার্ষিক রুকন সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এ কথা বলেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা অঞ্চল দক্ষিণ জামায়াতের পরিচালক ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান (মিলন)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুন্সিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির আ জ ম রুহুল কুদ্দুস এবং সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন রাজি।
শফিকুর রহমান জানান, দেশের যুবসমাজ পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা করছে, সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়ন সম্ভব। উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ভালো পরামর্শ দিয়েও সংবাদমাধ্যম সহযোগিতা করতে পারে। আমরা একসঙ্গে লড়াই করতে চাই, এই সমাজকে মুক্ত করতে চাই, একটি মানবিক বাংলাদেশ করতে চাই, একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ করতে চাই।’
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজকে চারপাশ থেকে দেখেন, কিন্তু সব সময় সবকিছু প্রকাশের সুযোগ পান না। সংবাদ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের আক্রান্তও হতে হয়। তিনি বলেন, ‘অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবেন না। বুক টান করে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলবেন। সেই কালো যদি আমার কাছেও কিছু পান, আমাকেও ছাড়বেন না।’
বিচারব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের আমির বলেন, ‘এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে গরিব আদালতে গেলে বিচার পাবে, ধনীও আদালতে গেলে বিচার পাবে। বিচারের বাণী আর নিভৃতে কাঁদবে না—সেই বাংলাদেশ আমরা করতে চাই।’
বাজেট ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে শফিকুর রহমান জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন খাতে কর কমানো হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। জামায়াত আমিরের প্রশ্ন, ৫০–৬০টি খাতে কর কমিয়ে দেওয়া হলো, কিন্তু বাজারে কোনো নিত্যপণ্যের দাম কি এক টাকা কমেছে? তিনি দাবি করেন, এর পেছনে বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট কাজ করছে এবং এসব সিন্ডিকেট রাজনৈতিক আশ্রয়–প্রশ্রয় পায়। রাজনৈতিক প্রশ্রয় না পেলে কোনো সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব জমিনের ওপরে থাকার কথা নয়।
জামায়াত আমির বলেন, জনগণের জীবনে স্বস্তি না এলে করছাড়ের সুফল কারা পাচ্ছে, সেই প্রশ্ন ওঠে। ব্যবসায়ীরাও বাঁচুক, জনগণও বাঁচুক। তাঁর ভাষ্য, অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী অভিযোগ করছেন যে ব্যবসা কয়েকটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, যে দল নিজেদের কর্মীদের সামাজিক অপকর্ম থেকে বিরত রাখতে পারে না, সেই দলের দেশ পরিচালনার নৈতিক অধিকার থাকে না। এ বিষয়ে জনগণই চূড়ান্ত বিচারক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দেশ ও জেলায় জেলায় চাঁদাবাজির ঘটনা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান জানান, মুন্সিগঞ্জ পবিত্র একটি নাম। কিন্তু এই নামের সম্মান রেখেও চাঁদাবাজি বন্ধ করা যায়নি। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—সারা দেশের একই চিত্র। তিনি বলেন, সরকারকে সময় দেওয়া যেতে পারে, তবে অনন্তকাল নয়। চাঁদাবাজিটা বন্ধ করেন। সারা দেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে মানুষের জীবনে তিন ভাগের এক ভাগ শান্তি ফিরে আসবে।
জাতীয় সংসদের ভূমিকা নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, কোনো সময় যদি সংসদ জনগণের প্রত্যাশা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় যথার্থতা হারায়, তাহলে সেই সংসদে থাকার প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষায়, সংসদ জনগণের জন্য। জনগণের প্রয়োজনে কাজ না করলে সেই সংসদে থাকার দরকার নেই।