
মাদারীপুরে অভিযানে আটক সাতজনকে থানায় নেওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের বাগ্বিতণ্ডা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই আসামি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান বলে দাবি স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার। পরে তাঁদের আবার গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে মাদারীপুর পৌরসভার পাকদী এলাকার শাহীন বেকারির মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে আসামি পালানোর ঘটনা অস্বীকার করছে পুলিশ।
মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশের ভাষ্য, নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে পাকদী এলাকার তাজন নেছা স্মৃতি সংঘ নামের একটি ক্লাবে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়। তাঁদের থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বাগ্বিতণ্ডা হয়।
আটক ব্যক্তিদের নিয়ে থানায় ফেরার সময় পুলিশের ওপর স্থানীয় লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদের উপস্থিতিতে পুলিশ স্থানীয় লোকজনকে লাঠিপেটা করে। এ সময় হাতকড়াসহ আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি ওসির।
তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লোকজনের ভিড়ের মধ্যে হানিফ খান ও সিফাত খলিফা নামের দুই ব্যক্তি হাতকড়াসহ পালিয়ে যান। পরে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে ওই দুই ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে দিয়ে যান জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব অহিদুজ্জামান অহিদ।
ওই ক্লাবে মাদকের কারবার চলে। সেখানে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের সরিয়ে আসামিদের থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।আবুল কালাম আজাদ, মাদারীপুর সদর মডেল থানার ওসি
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অন্তত সাতজনের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা পুলিশের কাছ থেকে আসামি পালিয়েছিল বলে জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউই নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তাঁরা জানান হাতকড়াসহ দুই আসামির পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ আবার পাকদী এলাকায় অভিযানে নামে। কিন্তু পলাতক আসামিদের তখন ধরতে পারেনি। পরে কৃষক দল নেতা অহিদুজ্জামান দুই আসামিকে নিয়ে এসে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
তবে বিষয়টি আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা বলতে নারাজ অহিদুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ ভুলে দুই আসামিকে ওখানেই থুয়ে (রেখে) গেছিল। পরে তাঁরা আইয়া লইয়া গেছে, অন্য কিছু হয় নাই। আসামিরা কেউ অন্যহানে যায় নাই।’
অভিযানে আটক সবাইকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। তাঁরা হলেন পাকদী এলাকার সিফাত খলিফা (২৫), হানিফ খান (৪০), আরিফ খলিফা (২৯), শ্রাবণ খান (১৮), ইয়ারসিন সরদার (১৮), রমজান মাতুব্বর (১৮) ও মঈন মুনশি (২২)।
পুলিশের হেফাজত থেকে আসামি পালানোর ঘটনা সঠিক নয় দাবি করে সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, হানিফ খান ও সিফাত খলিফাকে হাতকড়াসহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ সময় তিনি তাঁর ফোনে ওই দুই আসামির ছবি দেখান। তবে ছবিতে অন্য পাঁচ আসামি ছিলেন না।
ওসি আরও বলেন, ওই ক্লাবে মাদকের কারবার চলে। সেখানে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁদের সরিয়ে আসামিদের থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।