ঝিনাইদহ কোটচাঁদপুরের যমজ দুই ভাই তাছলিম আহমেদ (বাঁয়ে) ও তাওফিক আহমেদ এসএসসিতে জিপিএ ৫ ফাইভ পেয়েছে। ছবিতে দুই ভাই
ঝিনাইদহ কোটচাঁদপুরের যমজ দুই ভাই তাছলিম আহমেদ (বাঁয়ে) ও  তাওফিক আহমেদ এসএসসিতে জিপিএ ৫ ফাইভ পেয়েছে। ছবিতে দুই ভাই

জিপিএ–৫ পাওয়া যমজ দুই ভাই পড়তে চায় বুয়েটে, হতে চায় প্রকৌশলী

তাছলিম আহমেদ আর তাওফিক আহমেদ যমজ দুই ভাই। এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে তারা দুজনই জিপিএ-৫ পেয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে একজন।

ওই দুই ভাই ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর সরকারি মডেল পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। যমজ এই দুই ভাইয়ের মধ্যে তাছলিম আহমেদ মোট ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১১৯৫ নম্বর পেয়ে উপজেলার প্রথম হয়েছে। তার ভাই তাওফিক আহমেদ ১১৮০ নম্বর পেয়ে ষষ্ঠ হয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেছার আহম্মেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তাছলিম ও তাওফিকের এই সফলতায় খুশি শিক্ষক, মা–বাবা ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁরা কোটচাঁদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুক আহমেদ এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজনীন সুলতানার সন্তান।

মা নাজনীন সুলতানা বলেন, ছোট থেকেই তাছলিম ও তাওফিক পড়ালেখার প্রতি খুব আগ্রহী। তারা খেলাধুলার পাশাপাশি নিযমিত পড়ালেখা করে গেছে। মাত্র ১৫ নম্বরের ব্যবধান দুই ভাইয়ের মধ্যে। তার দুই সন্তানের সাফল্যে তিনি খুশি বলে জানান।
ফারুক আহমেদ জানান, তাঁর তিন সন্তান। বড় ছেলে তাহমিদ আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং–এ অধ্যয়নরত। যমজ দুই ছেলে এবার এসএসসিতে মেধার পরিচয় দিয়েছে। ছেলেরা যেন এই সফলতা ধরে রেখে সামনের দিনে আরও ভালো কিছু করে বিশ্বের কাছে দেশকে তুলে ধরতে পারে, সে জন্য সবার কাছে তিনি দোয়া কামনা করেছেন।

তাছলিম ও তাওফিক জানায়, মা–বাবা, ভাই ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় তারা ভালো ফল করেছে। তারা দুজনই প্রকৌশলী হতে চায়। ইচ্ছা বুয়েটে পড়ার।

কোটচাঁদপুর সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বালিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান বলেন, জমজ দুই ভাই তাছলিম আহমেদ ও তাওফিক আহমেদ শুধু লেখা পড়ায় না, খেলাধুলা, কুইজ প্রতিযোগিতাসহ সব বিষয়ে পারদর্শী। তারা বিদ্যালয়ের সাতজন খুদে বিজ্ঞানীর দুইজন। ওই সাত শিক্ষার্থী নাসায় গবেষণামূলক একটি প্রতিবেদন জমা দিয়ে বিশ্বে দশম গ্রেডে প্রথম হয়েছিল। তাদের এই অভাবনীয় সফলতায় গোটা বিদ্যালয় গর্বিত।