বগুড়া জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় মানুষের ফুটবল উন্মাদনা ছিল দেখার মতো। ফুটবলপ্রিয় মানুষদের সেই বহিঃপ্রকাশই দেখা গেল আজ বুধবার বগুড়া মহানগরীর শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম–সংলগ্ন ফুটবল মাঠে।
ম্যাচ ঘিরে গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। খেলার মাঠে, বাউন্ডারির গ্রিলের ওপর, বাউন্ডারির বাইরে গাছের ডালে ডালে, ফ্লাড লাইটের টাওয়ারে ফুটবলপ্রিয় হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতি প্রমাণ করে, তাঁরা ফুটবলকে কতটা ভালোবাসেন। খেলার প্রতি মুহূর্তে টান টান উত্তেজনা ও আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়ছিলেন দর্শকেরা।
প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই বাজিমাত করেছে বগুড়া সিটি করপোরেশন একাদশ। উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল খেলায় টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলে বগুড়া সদর উপজেলা একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তারা।
এর আগে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র হয়। পরে টাইব্রেকারেও ৪-৪ গোলে সমতা হলে ফলাফল নির্ধারণে রেফারি দুই দলকে একটি করে শর্ট দেওয়া সুযোগ দেন। বগুড়া সিটি করপোরেশন একাদশ নির্ধারিত শর্টে গোল দিতে সক্ষম হলেও বগুড়া সদর উপজেলা একাদশ গোল দিতে পারেনি। ফলে প্রথমবার অংশ নিয়েই শিরোপা জয়ের স্বাদ পায় বগুড়া সিটি করপোরেশন একাদশ।
টাইব্রেকারে প্রতিপক্ষের ফলাফল নির্ধারণী শট ঠেকিয়ে ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ পুরস্কার জিতেছেন বগুড়া সিটি করপোরেশন একাদশের গোলরক্ষক আবদুল হাকিম। ম্যাচ শেষে প্রধান অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ওরফে বাদশা, বগুড়া-জয়পুরহাটের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, ক্রীড়া সংগঠক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান, বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব খাজা আবু হায়াত প্রমুখ।
টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি ছাড়াও নগদ তিন লাখ টাকা এবং রানার্সআপ দলকে নগদ দেড় লাখ টাকা প্রদান করা হয়।
বগুড়া সিটি করপোরেশন, বগুড়ার ১৩টি উপজেলাসহ মোট ১২টি দল নিয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা যৌথভাবে এ টুর্নামেন্ট আয়োজন করে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেছেন, বগুড়ায় খুব শিগগির রহমান স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, আর্চারি, ভলিবলের ইনডোরসহ সব সুযোগ–সুবিধা এবং সব ধরনের খেলা আয়োজন, অনুশীলন ও খেলোয়াড় তৈরির ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া সুইমিংপুলও থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম–সংলগ্ন ফুটবল মাঠকে ফুটবল স্টেডিয়ামে রূপ দিতে খুই শিগগির গ্যালারি নির্মাণ করা হবে। বগুড়াসহ প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় শহরে খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা সুশৃঙ্খল জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ডিভাইসের আসক্তি থেকে আমরা সন্তানদের দূরে রাখতে চাই। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে চাই। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সবার সহযোগিতা চাই। সবাই মিলে আমরা একটি মাদকমুক্ত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’