
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহের জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রাহক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাঁরা দিরাই পৌরসভার শহীদ মিনারে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান নেন। পরে তাঁরা শহরে মিছিল করেন।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় প্রাঙ্গণেই শহীদ মিনারটি অবস্থিত। সেখানে অবস্থান নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
দিরাই উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১০ মার্চ দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। এখন উপজেলার একটি পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নে কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহের জন্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রাহক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ইউএনওর কার্যালয় থেকে প্রায় এক সপ্তাহ আগে পরীক্ষা নেওয়ার পর সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রাহকদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
দিরাই উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু হাসান চৌধুরী বলেন, প্রকাশিত তালিকায় থাকা ১৩ জনের নাম তাঁরা ইউএনওকে দিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, তালিকায় থাকা ওই ব্যক্তিদের কেউ নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত এবং কেউ ইউএনও কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আত্মীয়। গত বৃহস্পতিবার তাঁরা ইউএনওর কাছে এসব নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানান। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা রয়েছে, যেকোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের কাউকে নেওয়া যাবে না বলে জানান ইউএনও সনজীব সরকার। তিনি বলেন, ছাত্রদল নেতাদের দেওয়া তালিকা ধরে তদন্ত করা হচ্ছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সনজীব সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখনো কর্মীদের কোনো প্রশিক্ষণ হয়নি, কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। আমরা নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি। এখন তারা (ছাত্রদল) দাবি করছে, তাদের লোক নেওয়ার জন্য। আমার কার্যালয়ের নিচে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করলেও আমাকে তারা কোনো কিছু বলেনি।’