বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

মধ্যরাতে চায়ের দোকানে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, পরে একটি হলের ফটক ভাঙচুর

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। রোববার গভীর রাতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আবারও শহীদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আগের সংঘর্ষের জের ধরে গতকাল রোববার মধ্যরাতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। হামলার বিষয়ে দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।

এর আগে গত ২৩ ও ২৪ জুলাই দুই হলের দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় ওই দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

দুই হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল রাত ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ফসিলের মোড় এলাকায় আশরাফুল হক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী চা পান করছিলেন। এ সময় শহীদ শামসুল হক হলের ৪০–৫০ জন শিক্ষার্থী তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীরা। তাঁদের দাবি, হামলার সময় চায়ের দোকানে ভাঙচুর করা হয় এবং কাপ–পিরিচ ছুড়ে মারা হয়।

শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের দাবি, ফসিলের মোড়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা–কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেলেও গভীর রাতে আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে শামসুল হক হলের ফটকে হামলা চালান।

প্রথম আলোর হাতে আসা কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি শহীদ শামসুল হক হলের ফটকের সামনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছেন, বৈদ্যুতিক বাতি ভাঙচুর করছেন ও গেটে লাগানো লোগো খুলে ফেলছেন। ভিডিওতে কয়েকটি বিকট শব্দও শোনা যায় এবং ধোঁয়া দেখা যায়। তবে ওই শব্দের উৎস নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফসিলের মোড়ে হামলার শিকার হয়েছেন দাবি করে আশরাফুল হক হলের ৬৪ ব্যাচের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তাঁরা ছয়জন রাত প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে চা খেতে গেলে শামসুল হক হলের ৪০–৫০ জন শিক্ষার্থী তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা করেন। এ সময় দোকানের বেঞ্চ ও চায়ের কাপ ছুড়ে মারা হয়। এতে একজনের চোখের নিচে আঘাত লাগে। তাঁর ভাষ্য, ‘তাঁরা পূর্বপরিকল্পনা করে এসেছিলেন বলেই ধারণা করছি। আমাদের একা পেয়ে তাঁরা এমনটা করেছেন। পরে আমাদের হল থেকে লোকজন এলে তাঁরা চলে যান।’

অন্যদিকে শামসুল হক হলের শিক্ষার্থী রূপায়ণ ভূঁইয়া বলেন, কয়েক দিন আগে দুই হলের সংঘর্ষের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের হলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কটূক্তি ও বিদ্রূপ করা হচ্ছিল। রোববার রাতে ফসিলের মোড়ে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। পরে তাঁদের হলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীরা গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এর কিছুক্ষণ পর আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে হলের ফটকে হামলা চালান ও ভাঙচুর করেন।

কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ভাঙচুরের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে ১০ মিনিট পর তাঁরা সেখান থেকে চলে যান।

ঘটনার বিষয়ে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান শহীদ শামসুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল আওয়াল। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশরাফুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলম মিয়া জানান, ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠনের কাজ চলছে।

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আবদুল আলীমের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।