কুমিল্লা নগরে আবার কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে তোলা
কুমিল্লা নগরে আবার কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে তোলা

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান

আটক ২৫৪ জনের ১৪৬ জনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে জেলার ১৮টি থানায় আটক ২৫৪ জনের মধ্যে ১৪৬ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অপর ১০৮ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কিশোর গ্যাং–সংক্রান্ত অপরাধ, মাদক ব্যবসা ও সেবন, নিয়মিত মামলা, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আসামি রয়েছেন।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান আজ রোববার বিকেলে প্রথম আলোকে এ তথ্য জানান।

গতকাল শনিবার রাত আটটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। এর আগে গত বুধবার রাতেও একইভাবে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। তাঁদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, ‘বুধবার ও শনিবার রাতের অভিযানে কুমিল্লার মানুষের মধ্যে স্বস্তি এসেছে। আমরা মানুষের এই আস্থা ধরে রাখতে চাই। এ জন্য এ ধরনের অভিযান সপ্তাহে এক–দুই দিন পরিচালনা করব।’

লুৎফর রহমান বলেন, অভিযান চালিয়ে আটক করার পর মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া কিশোরদেরও নজরদারিতে রাখার চেষ্টা করছে পুলিশ। এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চললে কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

শনিবার রাতে কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাঁচজনই নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াডের’ সক্রিয় সদস্য বলে পুলিশের দাবি।

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯) রয়েছেন। পুলিশ তাঁকে রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পুলিশ বলছে, গ্রুপটির প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতন বর্তমানে কিছুটা আত্মগোপনে থাকায় আনিকই গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার আজ বিকেলে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শনিবার রাতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ৩৭ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাঁরা সবাই রতন গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।’

ওসি বলেন, আটক ৩৭ জনের মধ্যে ৯ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচজনসহ বাকিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, আনিকের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে কুমিল্লা নগর উদ্যানে এক তরুণকে হত্যার ঘটনায় করা মামলাও রয়েছে। ওই মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।