বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত
বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত

লালমনিরহাট ও মেহেরপুর সীমান্তে ৭ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা বিওপি সীমান্তের খালপাড়া এলাকা দিয়ে চারজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ ছাড়া লালমনিরহাটের পাটগ্রামের কালীরহাট সীমান্তেও তিনজনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সেসব অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

আজ শুক্রবার ভোরে বুড়িপোতা বিওপি সীমান্তের খালপাড়া এলাকায় সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে ভারতের অভ্যন্তরে চার ব্যক্তিকে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে বিজিবি তাঁদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। বর্তমানে ওই চার ব্যক্তি কাঁটাতারের এপারে শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

স্থানীয় সূত্র ও সীমান্তবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সীমান্তের ওই অংশের ওপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদীয়া জেলার তেহট্ট থানার নাটনা বিএসএফ ক্যাম্প অবস্থিত। ওই চারজনের মধ্যে এক পুরুষ ও তিন নারী রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের নাম–পরিচয় জানা যায়নি। পুশ ইন প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসী সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

বুড়িপোতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ জামাল জানান, আজ ভোরে ভারতের নাটনা ক্যাম্পের বিএসএফের সদস্যরা ওই চারজনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশ ইনের চেষ্টা চালান। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী বিজিবিকে খবর দেন এবং নিজেরাও সীমান্তে জড়ো হতে শুরু করেন। বিজিবির টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা থেমে যায়।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, কোনো পুশ ইন বা অনুপ্রবেশ বিজিবি হতে দেবে না। এ জন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

পাটগ্রামের কালীরহাট সীমান্তে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনজনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছে বিএসএফ। তবে বিজিবির বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। আজ সকালে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাটগ্রামের কালীরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ৮৫৭/১৩–এস বরাবর প্রতিপক্ষ ১৫৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের মিলরাপা ক্যাম্পের সদস্যরা তিন ব্যক্তিকে ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে এনে গেট দিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবির টহল দল তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করে। পরে বিএসএফের সদস্যরা ওই তিনজনকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) সহকারী পরিচালক আবদুর রাজ্জাক মণ্ডল বলেন, ‘সীমান্তে বিএসএফ কয়েকজনকে পুশ ইনের চেষ্টা করলে আমরা প্রতিহত করেছি।’