দিনাজপুরের হাকিমপুরে শাহিনুর ইসলাম (৩২) নামের এক যুবক প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিষয়টি জানার পর স্বামীকে তালাকের নোটিশ দেন দ্বিতীয় স্ত্রী। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহিনুর তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে কুপিয়ে জখম ও নাক কেটে দিয়েছেন। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হরিহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহিনুরকে আটকের পর পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন। শাহিনুর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার করঞ্জি গ্রামের খোরশেদ আলমের ছেলে। তাঁর প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুটি সন্তান আছে। ভুক্তভোগী রিভা মণি (২০) হাকিমপুর উপজেলার হরিহরপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের মেয়ে।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের মার্চ মাসে শাহিনুর ইসলাম প্রথম স্ত্রী ও দুই সন্তানের কথা গোপন রেখে রিভা মণিকে বিয়ে করেন। এর পর থেকে হাকিমপুরের হরিহরপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করে আসছিলেন শাহিনুর। তিন মাস আগে শাহিনুরের প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের খবর জানতে পারে রিভা মণির পরিবার। পরে গত বুধবার আদালতের মাধ্যমে শাহিনুরকে তালাকের নোটিশ দেন রিভা মণি। এরপর শাহিনুর গত শুক্রবার সন্ধায় রিভা মণির বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান ও হত্যার হুমকি দেন। পরদিন সকালে আবার রিভা মণির বাড়িতে যান শাহিনুর। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকায় ধারালো ছুরি দিয়ে রিভার শরীরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন তিনি। এ সময় রিভা মণির নাক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। পাশাপাশি শাহিনুরকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, গতকাল দুপুরে হরিহরপুরে এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নাক কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে গ্রামের লোকজন অভিযুক্ত শাহিনুরকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মামা জাকারিয়া মণ্ডল বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। ওই মামলায় শাহিনুরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ রোববার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।