
মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে চারজন আহত হয়েছেন। আজ বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের পূর্ব চান্দেরচর গ্রামের গাজী মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বসতঘর ভাঙচুর ও দোকানে লুটপাট করা হয়।
আহত ব্যক্তিরা হলেন ইমরান হোসেন (২৮), লিটন (৪৮), মো. সোহাগ (৩৫) ও রিয়াজুল (২০)। তাঁদের মধ্যে রিয়াজুল ও ইমরানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের প্রথমে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব চান্দেরচর গ্রামের রমজানদের সঙ্গে চান্দেরচর গ্রামের কালাইচান মাতবরদের গোষ্ঠীগত বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জেরে কয়েক দিন আগে কালাইচান মাতবর গোষ্ঠীর সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করেন রমজানদের গোষ্ঠীর লোকজন। আজ দুপুরে রমজানদের পক্ষের সোহাগ গাজী মার্কেটে পাইপ ফিল্টারের কাজ করতে গেলে কালাইচান মাতবরের লোকজন মারধরের প্রতিশোধ নিতে সোহাগকে মারধর করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রমজানের লোকজন টেঁটা ও অন্যান্য দেশি অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
এ সময় কালাইচানদের চারটি বসতঘর ভাঙচুর ও একটি দোকান লুটপাট করেন রমজানদের লোকজন। পরে কালাইচানরা টেঁটা নিয়ে রমজানদের ওপর হামলা করেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও টেঁটাযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রমজানদের ইমরান, লিটন, সোহাগ ও রিয়াজুল টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজদিখান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। খবর পেয়ে সিরাজদিখান থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল হান্নান বলেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে তুচ্ছ ঘটনায় এই মারামারি হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি।