বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে প্রতিটি ক্লাসে উপস্থিত থাকায় ২ এপ্রিল নাজমুল হোসেনকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে ফার্মেসি বিভাগ
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে প্রতিটি ক্লাসে উপস্থিত থাকায় ২ এপ্রিল নাজমুল হোসেনকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে ফার্মেসি বিভাগ

৬ বছরে এক দিনও ক্লাস ‘মিস’ দেননি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজমুল

স্নাতকে পড়েছেন পাঁচ বছর। সেই সঙ্গে স্নাতকোত্তরের এক বছর। উচ্চশিক্ষার এই ছয় বছরে এক দিনও ক্লাসে অনুপস্থিত ছিলেন না নাজমুল হোসেন। করোনার মহামারিতে প্রতিটি অনলাইন ক্লাসেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। এ কারণে বিভাগ থেকে বিশেষ সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি।

নাজমুল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি তাঁর স্নাতকোত্তরের ক্লাস শেষ হয়েছে। ছয় বছরের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে নানা কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়েছে। এরপরও তাঁর উপস্থিতি ছিল শতভাগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের ইতিহাসে উপস্থিতির এটিই রেকর্ড। অর্থাৎ এর আগে ওই বিভাগের আর কোনো শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে শতভাগ উপস্থিত ছিলেন না।

নাজমুলের উপস্থিতির এ ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি দিয়েছে বিভাগ। চলতি ২ এপ্রিল বিভাগের সাবেক সভাপতি মহি উদ্দিন ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স’ দেওয়া হয়েছে।

নাজমুল হোসেনের বয়স ২৬ বছর। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগে স্নাতক চার বছরের হলেও ফার্মেসি বিভাগে স্নাতক শেষ করতে লাগে পাঁচ বছর। স্নাতকে এই শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ছিল ৩ দশমিক ১৪। স্নাতকোত্তরের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে তিনি স্নাতকোত্তরে ভালো ফলের আশা করছেন। ফল পাওয়ার পর তিনি পিএইচডি ডিগ্রির জন্য বিদেশে যেতে চান। এরপর তিনি দেশে ফেরে শিক্ষকতায় যোগ দিতে চান।

ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা আমার অভ্যাস ছিল। এ অভ্যাস বিশ্ববিদ্যালয়েও বজায় ছিল। প্রতিটি ক্লাসকে আমি শেখার সুযোগ হিসেবে দেখেছি
নাজমুল হোসেন, শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

নাজমুলের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার তুলপাই গ্রামে। বাবা মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ স্কুলশিক্ষক। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। স্কুলজীবন থেকেই তাঁর নিয়মিত ক্লাসে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠেছিল। তাঁর দাবি, দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় অসুস্থ থাকায় টানা তিন দিন তিনি স্কুলে যেতে পারেননি। এরপর শিক্ষকেরা তাঁর খোঁজ নিতে বাড়িতে চলে এসেছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে নাজমুল ক্যাম্পাসের পাশের একটি ভাড়া বাসার মেসে থেকে পড়াশোনা করছেন।

নাজমুল হোসেন

নাজমুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তিনি একসঙ্গে তিন থেকে ছয়টি টিউশন করিয়েছেন। এরপরও নিয়মিত ক্লাসে যেতেন। করোনার সময়ে অনলাইনে ক্লাস হয়েছে। তখন তাঁর দীর্ঘদিন শুষ্ক কাশি ছিল। এরপরও অনলাইন ক্লাসে উপস্থিত থাকতেন। বর্তমানে তিনি দুটি গবেষণাগারে গবেষণা সহকারী হিসেবে কাজ করছেন। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক স্কোপাস-ইনডেক্সড জার্নালে তাঁর চারটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি গত বছর ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে ‘ডিউক অব এডিনবার্গ ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন।

নিজের এই অর্জন সম্পর্কে নাজমুল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা আমার অভ্যাস ছিল। এ অভ্যাস বিশ্ববিদ্যালয়েও বজায় ছিল। প্রতিটি ক্লাসকে আমি শেখার সুযোগ হিসেবে দেখেছি। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা থেকেও আমি শিখেছি।’

নাজমুল হোসেনের বয়স ২৬ বছর। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগে স্নাতক চার বছরের হলেও ফার্মেসি বিভাগে স্নাতক শেষ করতে লাগে পাঁচ বছর। স্নাতকে এই শিক্ষার্থীর সিজিপিএ ছিল ৩ দশমিক ১৪। স্নাতকোত্তরের ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে তিনি স্নাতকোত্তরে ভালো ফলের আশা করছেন।

নাজমুলের এ অর্জনে খুশি বিভাগের শিক্ষকেরাও। ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, নাজমুল নিয়মিত ও মনোযোগী ছাত্র ছিলেন। তিনি দায়িত্বশীল ও গবেষণায় সক্রিয় একজন শিক্ষার্থী। তাঁর ভদ্রতা ও পরিশ্রম তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সভাপতি তানজিনা শারমিন বলেন, ‘শুধু উপস্থিতির ভিত্তিতে এই সম্মাননা দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো অন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা। ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে উঠবে। আমরা নাজমুলের সফলতা কামনা করছি।’