মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে প্রচার মিছিলের ফাঁকে ফাঁকে ভোটারদের কাছে প্রচারপত্র বিতরণ করছেন। গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিবচর উপজেলার কলেজ মোড়ে
মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে প্রচার মিছিলের ফাঁকে ফাঁকে ভোটারদের কাছে প্রচারপত্র বিতরণ করছেন। গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিবচর উপজেলার কলেজ মোড়ে

মাদারীপুর-১ আসন

নারী অধিকার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন নাদিরা

মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে আলোচনায় নারীনেত্রী নাদিরা আক্তার। এখন নির্বাচনী এলাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন তিনি। নিজের অবস্থান জানান দিতে কখনো দলীয় নেতা-কর্মী নিয়ে প্রচার মিছিল, আবার কখনো গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করছেন।

শিবচর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নারী-পুরুষ ভোটার প্রায় সমান। জেলা বিএনপির সদস্য ও শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরা আক্তার নিজে নারী হওয়ায় নারী ভোটারদের আলাদা করে গুরুত্ব দিচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারে, বিশেষ করে উঠান বৈঠক ও পথসভায় নারীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন তিনি।

এদিকে নাদিরাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় স্থানীয়ভাবেও কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ধানের শীষের পক্ষে তাঁদের একত্র করতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। অনেকেই তাঁর প্রচেষ্টায় দলীয় প্রার্থীর দিকে ভিড়লেও বেশির ভাগ নেতা-কর্মী ‘বিদ্রোহী’ দুই প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারে সক্রিয়।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুরে তিনটি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী নাদিরা আক্তার (৪৬)। শিবচর পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২১ হাজার ১৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৮৭ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৯৪৪ জন।

নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শিবচর উপজেলা শহরে শোডাউন, প্রচার মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করেন নাদিরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঁচ্চর থেকে গাড়িবহর নিয়ে উপজেলার কলেজ মোড়ে আসেন নাদিরা। তাঁর আগমন ঘিরে আগে থেকেই কলেজ মোড়ে মিছিল নিয়ে জড়ো হচ্ছিলেন নেতা-কর্মীরা। নাদিরা গাড়ি থেকে নেমে নেতা-কর্মীদের নিয়ে শোডাউন দিয়ে একাত্তর চত্বরে আসেন। এ সময় দোকানে দোকানে লিফলেট বিতরণ করে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। পরে পৌরসভা মার্কেট, টিঅ্যান্ডটি মোড়, শিবচর বাজার, লালন মঞ্চ হয়ে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে নেতা-কর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তিনি।

এ সময় নাদিরা আক্তার বলেন, ১৬ বছর মানুষ ভোট দিতে পারেননি। সেই কাঙ্ক্ষিত ভোট দেওয়ার সময় এখন এসেছে। দলে দলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। একজন নারী প্রার্থী হিসেবে তিনি সবার দোয়া চান। তিনি বলেন, নারীরা কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে সব দিক থেকে বঞ্চিত। তিনি তাঁদের আর্থসামাজিক উন্নয়নসহ পুরো শিবচরে উন্নয়ন করতে চান।

পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের দোতারা এলাকায় একটি পথসভা করেন নাদিরা। যাওয়ার পথে কয়েকটি বাড়িতে গিয়ে তিনি ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ করেন। পথসভায় নাদিরা আক্তার বলেন, ‘আমি রাজনীতিতে ন্যায় ও সততা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। নারীদের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আপনারা আমার পরিবারকে দেখেছেন। সততা ও ন্যায়ের জন্য এখনো আমার স্বামী ও শ্বশুরের নাম সবার মুখে মুখে। আপনারা আমাকে একটি সুযোগ দিন। আমিও আপনাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে কাজ করতে চাই।’

শিবচর বাজার এলাকার ভোটার কামরুল হাসান বলেন, ‘এই আসনে যত প্রার্থী আছে, তার মধ্যে নাদিরা আক্তারের ইমেজ খুবই ক্লিন। তাঁকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। তিনি নির্বাচিত হলে ভালো হবে। এ ছাড়া এখানে কখনো নারী প্রার্থী ছিল না। তাই নারীদের কাছে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা আছে।’

১৯৭৯ সালের নির্বাচনে মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন নাদিরার শ্বশুর শামসুল হুদা চৌধুরী বাদশা। তাঁর মৃত্যুর পর একই বছর উপনির্বাচনে তাঁর চাচাশ্বশুর আলতাফ হোসেন চৌধুরী নির্বাচিত হন। এরপর এ আসনে বিএনপি থেকে কেউ নির্বাচিত হয়নি। ২০২০ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন নাদিরা চৌধুরী।

শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘শিবচরের রাজনীতিতে নারীদের অবস্থান সব সময়ই অবহেলিত ছিল। নাদিরা আক্তার সেই জায়গাটি পূরণ করেছেন। জনগণের কাছে তিনি এখন আস্থার নাম। এ আসনে প্রথমবারের মতো কোনো নারী প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা নারীদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক বিষয়।’

মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপি প্রাথমিকভাবে উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল জামান মোল্লাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। পরে মনোনয়নবঞ্চিত সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর সমর্থকেরা অসন্তোষ প্রকাশ করলে তাঁর মনোনয়ন স্থগিত করে দ্বিতীয় দফায় নাদিরা আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কামাল জামান মোল্লা ও সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এ কারণে তাঁদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী দুই প্রার্থী ছাড়াও মোট সাতজন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।