
দীর্ঘ অচলাবস্থার পর ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরলেও আবার এক দিনের শাটডাউন ঘোষণা করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার এ কর্মসূচি পালন করবেন তাঁরা। আজ রোববার সন্ধ্যায় এক জরুরি বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সভায় যোগ দিতে ঢাকায় যাওয়ায় তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে আজ রোববার রুটিন দায়িত্ব দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, নতুন উপাচার্যকে তাঁরা মেনে নেননি। অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে ক্যাম্পাসে তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টাও তাঁরা প্রত্যাখ্যান করছেন।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ৪১ দিন ধরে আন্দোলন চলছে চুয়েটে। গত ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার পরদিন থেকে এ আন্দোলন শুরু হয়। এর মধ্যে ১২ অক্টোবর ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ হন নতুন উপাচার্য। প্রশাসনের সহায়তায় সেখান থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করছেন। গত বুধবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরলেও পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিবৃতিতে বলা হয়, নিজেদের শিক্ষাজীবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের কথা বিবেচনা করে তাঁরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলেন। তবে তাঁদের অবস্থান ছিল, নতুন উপাচার্যকে তাঁরা মেনে নেননি এবং ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রমে তাঁর কোনো হস্তক্ষেপ থাকতে পারবে না।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেই অবস্থান উপেক্ষা করে অন্য একজনকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে আগামীকাল সব ক্লাস-পরীক্ষা এবং রুটিন দায়িত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জন করবেন তাঁরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহতাব হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর আমরা নিজেদের শিক্ষাজীবনের কথা বিবেচনা করে ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরেছিলাম। তবে আমাদের পূর্বঘোষিত অবস্থান উপেক্ষা করে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব অন্য একজনকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না। এরই প্রতিবাদে আমরা কাল শাটডাউন ডেকেছি।’
অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান মাহতাব হক।
আজ এক ই-মেইল বার্তায় অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেনকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি জানান উপাচার্য। এতে বলা হয়, আগামীকাল ইউজিসির একটি সভায় অংশ নিতে তিনি ঢাকায় থাকবেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেন নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি উপাচার্যের রুটিন প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব পালন করবেন।
ই-মেইল অনুযায়ী, আজ বিকেল থেকে এ দায়িত্ব কার্যকর হয়েছে। আগামীকাল সন্ধ্যায় উপাচার্য কর্মস্থলে ফিরে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেন এ দায়িত্ব পালন করবেন।
জানতে চাইলে অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেন বিষয়টিকে ‘রেগুলার ইস্যু’ বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘দাপ্তরিক কাজে আমি ঢাকায় যাচ্ছি। আমার অনুপস্থিতিতে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী দেলোয়ার হোসেন রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন।’
এর আগে আজ বেলা তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে সভা করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরে প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তাঁরা। মিছিলটি স্বাধীনতা চত্বর ঘুরে প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়।
মিছিলে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী যুলক্বারনাইন মিহাদ বলেন, ‘আমাদের একটাই দাবি—অধ্যাপক সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করতে হবে। এ দাবিতেই আমরা আন্দোলন করছি, করে যাব।’
ইউজিসির পরামর্শক কমিটির সফর প্রসঙ্গে যুলক্বারনাইন মিহাদ বলেন, কমিটি তাঁদের কথা শুনেছে। শিক্ষার্থীরা যে অধ্যাপক সায়েমকেই চান, সেই চিত্র কমিটি তুলে ধরবে বলে তাঁরা আশা করছেন।