রাজশাহীতে বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ, কমবে না ১৭ এপ্রিলের আগে

প্রচণ্ড গরম থেকে একটু স্বস্তি পেতে হাত-মুখে পানি দিচ্ছেন কয়েক শ্রমিক। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী নগরের চৌদ্দপায় ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকায়
 ছবি: শফিকুল ইসলাম

রাজশাহীতে আজ শনিবার সকাল থেকে তাপমাত্রা বাড়ছে। আজ সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুর ১২টার মধ্যে তা বেড়ে হয়েছে ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবার এখানে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ধরনের তাপমাত্রাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলছে আবহাওয়া দপ্তর। একই সঙ্গে তারা জানিয়েছে, তাপমাত্রা ১৭ এপ্রিলের আগে কমার সম্ভাবনা নেই।

রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, রাজশাহীতে আজ সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুর ১২টার দিকে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বর্তমানে রাজশাহীর ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বইছে।

রাজশাহীর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ৩ এপ্রিল রাজশাহীতে ৩ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। তখন তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রিতে নেমে আসে। পরে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। গত বুধবার রাজশাহীতে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ রেকর্ড করা হয় ৩৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার রেকর্ড করা হয় সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল শুক্রবার রেকর্ড করা হয় ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাপপ্রবাহের কারণে মানুষের চলাফেরায় কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ তীব্র রোদে কাজ করতে হাঁপিয়ে উঠছেন। রাজশাহী নগরের চৌদ্দপায় ফায়ার সার্ভিস মোড়ে রাস্তায় কাজ করছিলেন কয়েক শ্রমিক। বেলা ১১টার দিকে কাজের একপর্যায়ে তাঁরা রাস্তায় ওয়াসার লাইনের একটি পাইপে হাতমুখ ধুচ্ছিলেন। প্রচণ্ড গরমের হাত থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে হাত–মুখে পানি দিচ্ছেন বলে জানান আল আমিন। তিনি বলেন, প্রচণ্ড রোদের কারণে সব শুকিয়ে যাচ্ছে। পানি পান করেও কিছু হচ্ছে না। তবু কাজ করতে হচ্ছে।

মাথায় ছাতা বেঁধে ভ্যানে করে কাপড় ফেরি করে বিক্রি করছিলেন মাহবুব আলম। নগরের বুধপাড়া এলাকায় তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, খুব রোদ উঠেছে। ফেরি করার সময় মাঝেমধ্যে ক্রেতা পেলে গাছতলায় জিরিয়ে নেন। বিক্রিও কম।
প্রায় চার দিন ধরে তাপমাত্রা অব্যাহতভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ কামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, তাপমাত্রা আরও বাড়বে। ১৭ এপ্রিলের আগে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই।

গরমে গাছ থেকে গুটি হওয়া আম ঝরে পড়ছে বলে অনেকে অভিযোগ করছেন। এ বিষয়ে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোজদার হোসেন বলেন, রাজশাহীতে এবার গাছে প্রচুর আমের গুটি। এমনও দেখা গেছে, গাছের সক্ষমতার চেয়ে বেশি আম এসেছে। অনেক সময় সক্ষমতার বাইরে আমগুলো পড়ে যায়। এটা এই তাপমাত্রার কারণে নয়। রাজশাহীতে দুই দফা বৃষ্টি হয়েছে। এ বৃষ্টি আমের জন্য যথেষ্ট উপকারে এসেছে। তাঁরা কৃষকদের স্বাভাবিক পরিচর্যা করার পরামর্শ দিচ্ছেন।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমির বাগানে আম চাষ করা হয়েছে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর। গতবার আম উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৬ হাজার ১৫৬ মেট্রিক টন। এবার ২ লাখ ২৫ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।