গুলিতে আহত বাংলাদেশি মিজান হোসেন
গুলিতে আহত বাংলাদেশি মিজান হোসেন

পাটগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশি গুলিবিদ্ধ : বিএসএফের দুঃখ প্রকাশ, ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের ধবলসূতি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে গুলির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং তাদের নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয়।

আহত বাংলাদেশি যুবক মিজান হোসেনকে (১৮) প্রথমে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সার্বিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম।

বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, সোমবার সকাল দশটার দিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রামের ধবলসূতি সীমান্ত এলাকায় সীমান্ত মেইন পিলার ৮২৬/১-এস এর মধ্যবর্তী শূন্যরেখার পাশে ৯৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের আওতাধীন গৌমতি বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্য কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক মো. মিজান হোসেনকে (১৮) সরাসরি এক রাউন্ড গুলি (রাবার বুলেট) করা হয়। আহত মিজান হোসেন লালমনিরহাটের পাটগ্রামের রহমতপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে।

এ–সংক্রান্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুর ১২টায় পাটগ্রামের ধবলসূতি সীমান্তের মেইন পিলার ৮৮৭/৫-এস থেকে আনুমানিক ২০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গাটিয়ারভিটা নামক স্থানে বিজিবি ও বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন লালমনিরহাট জেলার তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম এবং বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৯৮ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ কমান্ড্যান্ট শ্রী সুনীল কুমার।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে আরও জানা যায়, পতাকা বৈঠকে মিজান হোসেনের ওপর বিএসএফ সদস্য কর্তৃক সরাসরি এক রাউন্ড গুলি করার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রতিউত্তরে বিএসএফ ব্যাটালিয়ন কমান্ড্যান্ট দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, তাঁরা তাঁদের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

তিস্তা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম বলেন, পতাকা বৈঠকে উভয় পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় পুনরায় ফায়ারিংয়ের ঘটনা যেন না ঘটে সে ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে যেকোনো সমস্যা সমাধানে একমত পোষণ করা হয়েছে।