গ্যাসের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে
গ্যাসের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ। আজ বৃহস্পতিবার সকালে

জামালপুরে সিএনজির সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, ৫ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার

জামালপুরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবিতে জামালপুর–টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চালকেরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে শহরের বাইপাস এলাকায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।

পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারী অটোরিকশাচালকেরা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তাঁরা গ্যাস পাচ্ছেন না। গ্যাস–সংকটের কারণে গাড়ি চালাতে না পারায় আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সংসার চালানো, সন্তানদের পড়াশোনার খরচ এবং গাড়ির কিস্তি পরিশোধ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

গতকাল রাত থেকে ফিলিং স্টেশনে কোনো গ্যাস সরবরাহ নেই। রাত থেকে আজ ভোর পর্যন্ত অপেক্ষার পরও চালকেরা গ্যাস পাননি।

চালক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুরে দীর্ঘদিন ধরে জাবেদ ফিলিং স্টেশন নামের একমাত্র গ্যাস পাম্পে অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এতে এমনিতেই গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় লাগত। এর মধ্যে গতকাল রাত থেকে ফিলিং স্টেশনে কোনো গ্যাস সরবরাহ নেই। রাত থেকে আজ ভোর পর্যন্ত অপেক্ষার পরও চালকেরা গ্যাস পাননি।

পরে আজ সকাল ৬টার দিকে বিক্ষুব্ধ অটোরিকশাচালকেরা শহরের বাইপাস এলাকায় জামালপুর–টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। সেখানে তাঁরা নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ ও নতুন আরও একটি ফিলিং স্টেশনের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে।

গ্যাসের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চালকেরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর যানবাহন চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।

গ্যাস না পেয়ে আক্ষেপ করেন শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার অটোরিকশাচালক আজগর আলী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্যাস না থাকলে পাম্পে আগে থেকেই নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হোক। সারা রাত জেগে ভোর বেলায় জানতে পারি গ্যাস নাই। এটা কোনো কথা। এভাবে চলতে পারে না। আবার দুই একজন গ্যাস পাচ্ছেন। আবার কেউ পাচ্ছেন না। গ্যাসের কারণে আমাদের জীবন শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

অটোরিকশার চালক জয়নাল আবেদীন বলেন, গ্যাস না পেলে গাড়ি চালানো সম্ভব হয় নয়। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে, তাঁদের পরিবার আরও সংকটে পড়বে।

দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে, তাঁদের পরিবার আরও সংকটে পড়বে।
অটোরিকশার চালক

এদিকে অবরোধের কারণে জামালপুর–টাঙ্গাইল মহাসড়কে ভোগান্তিতে পড়েন টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকায় যাওয়া যাত্রীরা। ঢাকাগামী যাত্রী শ্যামল বলেন, এ সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন। সড়ক অবরোধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ানো হয়েছে। সকাল থেকে বাসে বসে আছি। এসব আন্দোলনের সময় সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি সবার মাথায় রাখার উচিত।

গ্যাস–সংকটের কারণে অটোরিকশাচালকেরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন বলে জানান জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।