মাষকলাইয়ের আমিত্তির প্রধান উপকরণ হলো মাষকলাইয়ের ডাল। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হয় আতপ চালের গুঁড়া। রোববার বিকেলে শহরের মুন্সিবাজার ঘোষপট্টির একটি মিষ্টির দোকানে
মাষকলাইয়ের আমিত্তির প্রধান উপকরণ হলো মাষকলাইয়ের ডাল। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হয় আতপ চালের গুঁড়া। রোববার বিকেলে শহরের মুন্সিবাজার ঘোষপট্টির একটি মিষ্টির দোকানে

শেরপুরের ইফতারে ভিন্ন স্বাদ যোগ করে ‘মাষকলাইয়ের আমিত্তি’

খুরমা-খেজুর, লাচ্ছি, বোরহানি, কলা, মুড়ি, পেঁয়াজু, লাড্ডু কিংবা বুন্দিয়া—ইফতারের টেবিলে থাকে নানা রকম খাবার। তবে এসবের মধ্যেও শেরপুরের রোজাদারদের কাছে আলাদা কদর আছে একটি বিশেষ মিষ্টির—‘মাষকলাইয়ের আমিত্তি’। রমজান মাস এলেই শহরের ইফতারির বাজারে এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ।

শেরপুরের প্রসিদ্ধ মিষ্টির তালিকায় অন্যতম স্থান দখল করে আছে মাষকলাইয়ের আমিত্তি। আগে মূলত শরৎকালে এটি তৈরি করা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এখন রমজান মাসেও ব্যাপকভাবে তৈরি ও বিক্রি করা হচ্ছে। ঝাল ও ভাজাপোড়া ইফতারির পাশাপাশি এই মিষ্টি রোজাদারদের জন্য এক ভিন্ন স্বাদ এনে দেয়। ফলে বিকেলের পর থেকেই শহরের ঘোষপট্টির মিষ্টির দোকানগুলোয় ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ করা যায়।

কীভাবে তৈরি হয়

মাষকলাইয়ের আমিত্তির প্রধান উপকরণ হলো মাষকলাইয়ের ডাল। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হয় আতপ চালের গুঁড়া। শেরপুর শহরের মুন্সিবাজার ঘোষপট্টির দুর্গাচরণ মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক সঞ্জয় চন্দ্র ঘোষ বলেন, প্রথমে কাঁচা মাষকলাইয়ের ডাল কয়েক ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে ভালোভাবে বেটে নেওয়া হয়। এরপর তাতে পরিমাণমতো আতপ চালের গুঁড়া মেশানো হয়। সেই মিশ্রণ দিয়ে বিশেষ ছাঁচে কাঁচা আমিত্তি তৈরি করে তেলে ভাজা হয়। পরে ভাজা আমিত্তিগুলো চিনির তৈরি শিরায় কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়।

শেরপুরে ইফতারে ‘মাষকলাইয়ের আমিত্তি’ রোজাদারদের কাছে বেশ প্রিয়। রোববার বিকেলে শহরের মুন্সিবাজার ঘোষপট্টির একটি মিষ্টির দোকানে

শত বছরের ঐতিহ্য

জেলার মিষ্টি ব্যবসায়ীদের মতে, ১০০ থেকে ১৫০ বছর ধরে শেরপুরে মাষকলাইয়ের আমিত্তি তৈরি হয়ে আসছে। অতীতে মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব ও ভাইফোঁটা উৎসবে এই মিষ্টি তৈরি করা হতো। পরে রোজাদারদের চাহিদার কারণে স্বাধীনতার পর থেকে রমজান মাসেও এটি তৈরি শুরু হয়। এখন রমজান মাসজুড়েই ঘোষপট্টির দোকানগুলোয় আমিত্তি বানানো হয়।

শেরপুর শহরের ঘোষপট্টির দুর্গাচরণ মিষ্টান্ন ভান্ডার, রাজবল্লভ মিষ্টান্ন ভান্ডার, নন্দ গোপাল মিষ্টান্ন ভান্ডার, প্রেমানন্দ গ্র্যান্ড সন্স, শ্রীকৃষ্ণ মিষ্টান্ন ভান্ডারসহ বিভিন্ন দোকানে এই মিষ্টি পাওয়া যায়। বর্তমানে প্রতি কেজি আমিত্তি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকায়। ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান মাসে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি পর্যন্ত আমিত্তি বিক্রি হয়।

শহরের সবজরখিলা মহল্লার গৃহিণী তাহমিনা বেগম দুর্গাচরণ মিষ্টান্ন ভান্ডারে আমিত্তি কিনতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘মাষকলাইয়ের আমিত্তি খুবই সুস্বাদু। রমজান মাসে ইফতারের টেবিলে এটি বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে। তাই প্রায় প্রতিদিনই ইফতারে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে আমরা এটি রাখি।’

শেরপুর জন উদ্যোগের আহ্বায়ক ও শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইফতারে মাষকলাইয়ের আমিত্তি রোজাদারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। তাই তাঁর বাসা ও বিভিন্ন সামাজিক আয়োজনের ইফতার মাহফিলেও এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি রাখা হয়।