কলেজ শিক্ষক সারওয়ার আলম
কলেজ শিক্ষক সারওয়ার আলম

ফেসবুক লাইভে এসে বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ কলেজশিক্ষকের

টাঙ্গাইলের সখীপুরে বিদ্যুৎ বিভাগের করা মামলায় আত্মগোপনে থাকা এক কলেজশিক্ষক ফেসবুক লাইভে এসে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার ও বকেয়া বিলের কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার বেলা একটার দিকে প্রায় ২০ মিনিটের একটি ফেসবুক লাইভে এসে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন উপজেলার বড়চওনা-কুতুবপুর কলেজের প্রভাষক সারোয়ার আলম। তিনি উপজেলার চতলবাইদ গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা শামসুল আলম ও মা মমতাজ আলমের নামে এলাকায় তিনটি বৈদ্যুতিক মিটার রয়েছে।

লাইভে সারোয়ার আলম দাবি করেন, সখীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) আবুবকর তালুকদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।

সারোয়ার আলমের ভাষ্য, গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর সখীপুর বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা তাঁর বাবার মুঠোফোনে কল করে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর পরপরই তাঁকে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী দেখিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার একটি মামলা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

সারোয়ার আলম বলেন, ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে গত ২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধের পর ৭০ দিন কারাভোগ শেষে তিনি মুক্তি পান। তবে জেলে থাকা অবস্থায় তাঁর মায়ের নামে থাকা আরেকটি মিটারের বিপরীতে তাঁকে ব্যবহারকারী দেখিয়ে দ্বিতীয় মামলা করা হয়। সেই মামলায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ২০২২ সালে তাঁর বাবার নামে বিদ্যুৎ বিভাগের করা দুই লাখ আট হাজার টাকার একটি মামলার অর্থ পরিশোধ করা হয়েছিল। বর্তমানে গ্রামের বাড়ির মিটারের বিপরীতেও তাঁর নামে আরও একটি মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

সারোয়ার আলম বলেন, তিনি নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে একটি কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত থাকলেও এমপিওভুক্তি থেকে কোনো বেতন পান না। ফলে তাঁকে বাবার ওপর নির্ভর করতে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ বিভাগ তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করছে। গ্রেপ্তারের ভয়ে তিনি পরিবারের সঙ্গে ঈদও করতে পারেননি এবং নিয়মিত কলেজে যেতে পারছেন না। লাইভে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য, প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে চাই।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সখীপুর পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী আবুবকর তালুকদার। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, সারোয়ার আলমের গ্রামের বাড়ি ও নলুয়া বাজারের দুটি মিটারের আওতায় দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলেও বিল পরিশোধ করা হয়নি। পরে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে।

আবুবকর তালুকদার বলেন, ‘একটি মামলার বিল পরিশোধ করে সারোয়ার আলম কারামুক্ত হয়েছেন। অন্য মামলার বকেয়া বিল পরিশোধ করলেও তাঁর কোনো সমস্যা হবে না। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলে তাঁকে পালিয়ে থাকতে হবে না। আমরা তাঁকে কোনো হয়রানি করছি না। বরং তিনি আমাদের বিরুদ্ধে অসত্য তথ্য প্রচার করছেন।’