জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
নজরুলের ৫০তম প্রয়াণ দিবস ও ‘নজরুলবর্ষ’ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সখীপুরে আয়োজিত ‘কাব্যে ও ছন্দে নজরুল’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আহমেদ আযম খান এ কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৪১ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সখীপুরের পাহাড়কাঞ্চনপুর এলাকায় বীর উত্তম সুলতান মাহমুদ বিমানবাহিনী ঘাঁটিতে অবস্থিত বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কাজী নজরুলের কবিতা ও গানে অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ-বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী উচ্চারণ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির ভেদাভেদ ভুলে কবি মানবতার জয়গান গেয়েছেন। নজরুলের সাহিত্য মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং শোষিত-বঞ্চিত মানুষের পাশে থাকতে প্রেরণা দেয়। তাঁর সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার চেতনা আজও প্রাসঙ্গিক।
কবি নজরুলকে বাঙালির মুক্তি ও মানবতার সংগ্রামের অনন্য প্রতীক উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, তাঁর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। তিনি নতুন প্রজন্মকে নজরুলের মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম ধারণ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে কবির লেখা গান ও কবিতা নিয়ে ছিল শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এ ছাড়া এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৪১ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এয়ার কমডোর মো. মাহামুদুর হাসান। বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ গ্রুপ ক্যাপ্টেন মনজিলা রিজওয়ান।