মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পাটুরিয়ার তিন নম্বর ফেরিঘাট এলাকায়
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে পাটুরিয়ার তিন নম্বর ফেরিঘাট এলাকায়

পাটুরিয়ায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহন

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ঈদযাত্রায় দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখী মানুষের চাপ বেড়েছে। ঢাকা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দূরপাল্লার বাসে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথ পারাপার হতে ঘাট এলাকায় আসছেন অসংখ্য যাত্রী। তবে এবার ঘাট এলাকায় যাত্রীদের তেমন ভোগান্তি নেই। ঘাটে আসার আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে যাত্রীবাহী বাসগুলো ফেরিতে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সরেজমিনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানিকগঞ্জ অংশে কোথাও যানজট দেখা যায়নি। তবে মহাসড়কে কয়েকটি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ঈদযাত্রা শুরু হলেও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ ছিল না। পোশাক কারখানা ছুটি হওয়ার পর গতকাল বুধবার দুপুরের পর থেকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। তবে এসব যানবাহনের অধিকাংশই লোকাল বাস। এসব বাস যাত্রীদের ঘাট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে আবার ঢাকার দিকে চলে যায়। এবারের ঈদযাত্রায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ১৭টি ফেরি এবং আরিচা-কাজীরহাট নৌপথে পাঁচটি ফেরিতে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ফেরি পারাপারে বাসের চাপ কম থাকায় ঘাট এলাকায় ভোগান্তি নেই বললেই চলে।

এদিকে বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ২২টি এবং আরিচা-কাজীরহাট নৌপথে ১২টি লঞ্চ দিয়ে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। এ ছাড়া লঞ্চের পাশাপাশি আরিচা-কাজীরহাট নৌপথে ৪০টির মতো স্পিডবোটে যাত্রীরা পারাপার হচ্ছেন।

সরেজমিনে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় দেখা গেছে, পোশাক কারখানার শ্রমিকদের ছুটির পর গতকাল দুপুরের পর থেকে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। আজ সকাল থেকে লোকাল বাসে করে পাটুরিয়া পুরাতন ট্রাক টার্মিনালে আসছেন অনেক যাত্রী। এরপর প্রায় আধা কিলোমিটার হেঁটে তাঁরা লঞ্চঘাটে যাচ্ছেন। সেখানে ১০ থেকে ১৫ মিনিট লঞ্চের জন্য অপেক্ষায় থাকার পর তাঁরা লঞ্চে উঠছেন। এ ছাড়া এসব যাত্রীর অনেকে ফেরিতেও গিয়ে উঠছেন। এরপর নৌপথ পারাপার হয়ে দৌলতদিয়া প্রান্তে গিয়ে নামছেন।

এ ছাড়া দূরপাল্লার বাসে করেও যাত্রীরা পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় আসছেন। তবে এসব দূরপাল্লার বাস ও যাত্রীর চাপ কিছুটা কম। ঘাটে আসার এক ঘণ্টার মধ্যে এসব দূরপাল্লার বাস ও যাত্রীরা ফেরিতে উঠছেন। প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে করেও ঈদে ঘরমুখী মানুষ গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন।

ঢাকার আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক কামরুল হোসেনের স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা গ্রামে ঈদ করতে যাচ্ছেন। আজ সকাল ১০টার দিকে লঞ্চঘাট এলাকায় কথা হলে তিনি বলেন, ‘সকাল সাতটার দিকে সাভারের নবীনগর থেকে বাসে উঠছি। এবার রাস্তায় (ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক) যানজটে পড়তে হয় নাই। তবে লঞ্চঘাটে এসে কিছু সময় লঞ্চের জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে।’

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘাট এলাকায় অর্ধশত যাত্রীবাহী বাসের সারি দেখা যায়। এসব যানবাহন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে ফেরিতে উঠে যাচ্ছে। এ ছাড়া দেড় শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ঘাট এলাকায় আটকা পড়েছে। এসব পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে পাটুরিয়া ট্রাক টার্মিনালে রাখা হয়েছে।

পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাট এলাকায় লালন পরিবহনের একটি বাসের যাত্রী আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি কুষ্টিয়া সদরে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। বলেন, ‘প্রায় এক ঘণ্টা আগে ঘাটে এসেছেন। খুব একটা ভোগান্তি না হলেও শেষ হয়ে যায়নি। তবে ঈদের আগে ঘাটে ফেরির জন্য এক ঘণ্টা অপেক্ষা অনেকটা স্বাভাবিক বিষয়।’

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সালাম হোসেন প্রথম আলোকে জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে যাত্রী ও যানবাহন একেবারেই কমে গেছে। তবে ঈদের আগে এই ঘাটে চাপ বেড়ে যায়। তবে পর্যাপ্ত ফেরি থাকায় ভোগান্তি ছাড়াই এবার ঈদে ঘরমুখী যাত্রী ও যানবাহন নৌপথ পারাপার হচ্ছে।

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ঈদযাত্রায় ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে দূরপাল্লার বাসগুলো। বৃহস্পতিবার সকালে পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায়

এদিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহন বাড়লেও যানজট নেই। তবে মহাসড়কের মানিকগঞ্জ অংশের কয়েকটি বাসস্ট্যান্ড ধীরগতিতে ঈদযাত্রার যানবাহন চলাচল করছে। এই ঘাটে আজ সকালে দেখা গেছে, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড, বানিয়াজুরী, মহাদেবপুর, বরঙ্গাইল ও টেপড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করছে। এসব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রীদের ওঠানো–নামানো করানোর কারণে সেখানে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। তবে কোথাও যানজটের সৃষ্টি হয়নি।

এসব স্থানে পুলিশ সদস্যরা যানবাহনগুলোকে সুশৃঙ্খলভাবে চলাচলে সহায়তা করছেন।
আজ বেলা একটার দিকে ঘাট এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক আবুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, ঈদযাত্রায় আজ যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপ বাড়লেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানিকগঞ্জ অংশে কোথাও যানজট নেই। কয়েকটি স্থানে ধীরগতিতে চলাচল করছে। তবে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা একযোগে কাজ করছেন।