নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাসের লিকেজে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণে একটি বাড়ির ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ে। গত শনিবার কদমতলী খালপাড় এলাকায়
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাসের লিকেজে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণে একটি বাড়ির ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ে। গত শনিবার কদমতলী খালপাড় এলাকায়

সিদ্ধিরগঞ্জে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ : ফায়ার সার্ভিস

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জে তিতাস গ্যাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী খালপাড় এলাকায় হানিফ সিকদারের বাড়িতে ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

তবে বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বাড়ির রান্নাঘর ও বাথরুমের ছাদ এবং দেয়াল ধসে পড়েছে।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আদমজী স্টেশনের কর্মকর্তা মিরন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, বাড়ির পাশে দুটি গ্যাসের রাইজার থেকে লিকেজ হয়ে আশপাশে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। ওই বাড়ির সামনে থাকা ছোট রান্নাঘর ও বাথরুমে জমে গ্যাস চেম্বার তৈরি করে। আগুনের স্পার্ক থেকে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মূলত গ্যাস জমে থাকার কারণে বিস্ফোরণটি হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাদ ও দেয়ালের ইট-সুরকি সরানো হয়েছে। বিষয়টি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আজ রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার কদমতলী এলাকার হানিফ সিকদারের বাড়ির সামনে রান্নাঘর ও বাথরুমের ছাদ ও দেয়াল পুরোপুরি ধসে পড়েছে। বিস্ফোরণের কারণে আশপাশে ইট, সিমেন্ট ও সুরকির স্তূপ জমে আছে। বাড়ির মালিক হানিফ সরদার ও তাঁর ছেলে মো. মাসুদ লোকজন নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রান্নাঘর ও বাথরমের নিচে থাকা সেফটিক ট্যাংক থেকে পাম্প লাগিয়ে পানি অপসারণের কাজ চলছে। সেখানে নতুন করে রান্নাঘর ও বাথরুম নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় পাশের একটি টিনশেড বাড়ির দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মাদ্রাসাশিক্ষার্থী মোস্তাকিন বিল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, মাগরিবের নামাজের পর তিনি ওই বাড়ির সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ বিস্ফোরণে ওই বাড়ির রান্নাঘর ও বাথরুমের ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ে। পয়োনিষ্কাশনের ড্রেনের সাতটি স্লাপ উঠে যায়। ড্রেনের ভেতর থেকে আগুনের গোলা বের হতে দেখা গেছে।

বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ভয়ে দোকান ছেড়ে বাইরে বের হয়ে যান প্রতিবেশী মুদিদোকানি শাহিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘বাইরে বের হয়ে দেখি বাড়ির সামনে দেয়াল ও ছাদ সড়কে পড়ে আছে।’ বিস্ফোরণে তাঁদের দোকানের সামনের ড্রেনের কয়েকটি স্লাপও উঠে গেছে।

বাড়ির মালিকের ছেলে মুদিদোকানি মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাড়ির সামনে ড্রেনের ভেতরে জমে থাকা গ্যাস থেকেই এই বিস্ফোরণ হয়েছে। সেই গ্যাস আমাদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে রান্নাঘর ও বাথরুম ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়েছে।’ এ ঘটনায় তিনি ড্রেন নিয়মিত না পরিস্কার করাকে দায়ী করেছেন।

প্রতিবেশী রানা চৌধুরী বলেন, বিস্ফোরণের কারণে তাঁর টিনশেড বাড়ির কয়েকটি কক্ষের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মিরন মিয়া আরও জানান, গ্যাসলাইনের লিকেজের বিষয়টি গুরুত্বসহ দেখতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা আব্দুল বারিক প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এটি গ্যাসের লিকেজ থেকে একটি দুর্ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের জরুরি বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সাধারণত গ্যাসের রাইজার বাইরে থাকলে লিকেজ থেকে গ্যাস ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে না। তবে পুরো বিষয়টি তদন্তের পর নিশ্চিত করে বলা যাবে।