জিয়াউল হক মৃধা (বাঁয়ে) ও তাঁর জামাতা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া
জিয়াউল হক মৃধা (বাঁয়ে) ও তাঁর জামাতা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার জামাই-শ্বশুর পৃথক আসনে লাঙ্গল প্রতীকে লড়বেন

একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন জাতীয় পার্টির টানা দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা ও তাঁর জামাতা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া। উভয় নির্বাচনের কোনোটিতেই তাঁদের কেউ জয়ী হতে পারেননি। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শ্বশুর-জামাতা এবার পৃথক দুটি আসন থেকে জাতীয় পার্টির (জি এম কাদের) প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে নির্বাচনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জিয়াউল হক মৃধা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এবং তাঁর জামাতা রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগরের একাংশ) আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। জিয়াউল হক মৃধার পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি এলাকায় নেই।

রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে নির্বাচন করব। আমরা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ প্রত্যাশা করি।’

সরাইল উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এহসানুল হক বলেন, ‘গত দুটি নির্বাচনে দলীয় দ্বন্দ্বের কারণে জিয়াউল হক মৃধাকে লাঙ্গল প্রতীক দেওয়া হয়নি। এবার আমাদের দলে কোনো বিভক্তি নেই। তিনি লাঙল প্রতীকেই নির্বাচন করবেন। সুষ্ঠু পরিবেশে এলাকায় থাকতে পারলে তাঁর জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য মিথ্যা মামলাগুলো থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিতে হবে।’

জিয়াউল হক মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, ‘সুষ্ঠু পরিবেশ থাকলে আমি দলীয় প্রতীক লাঙল নিয়ে নির্বাচন করতে চাই। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। এসব মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আমরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হব।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জিয়াউল হক মৃধা ছিলেন জাতীয় পার্টির তৎকালীন চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। তবে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিরোধের জেরে ওই নির্বাচনের আগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। দীর্ঘদিন পর গত ২৬ ডিসেম্বর তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে জাতীয় পার্টির জি এম কাদের অংশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

দলীয় ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, জিয়াউল হক মৃধা নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের অন্যতম শরিক ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীকে পরাজিত করে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র নায়ার কবিরকে হারিয়ে জয়ী হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছিলেন রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া। জিয়াউল হক মৃধা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মঈন উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ৮৪ হাজার ৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জিয়াউল হক মৃধা (ঈগল প্রতীক)। এ নির্বাচনে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া ৩ হাজার ৪০৮ ভোট পেয়ে জামানত হারান।