
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ৯২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে।
গতকাল রোববার রাজবাড়ীর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে কুষ্টিয়া ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক (প্রশাসন) শহিদুল ইসলাম মামলাটি করেন।
এর আগে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে ১৬ জুলাই খুলনা দক্ষিণাঞ্চলের পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই ঘটনায় কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ও আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কুষ্টিয়ার কমিটি গত ২২ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ১২ জুলাই কুষ্টিয়া বিভাগীয় ডাক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে যান।
প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সাদা কাগজে দাপ্তরিক সিল ব্যবহার করে ৬১ জন গ্রাহকের ৯১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছেন। আদেশ পরে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মামলার আইনজীবী বিজন কুমার ঘোষ।
মামলার আসামিরা হলেন রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের তৎকালীন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাস, লেটার রাইটার শিহাব মৃধা ও তাঁর ভাই পিএলআই এজেন্ট মাহবুব হাসান মৃধা, অফিস সহায়ক রেজাউল আলম, তৎকালীন ট্রেজারার নাজমুল হাসান এবং পোস্টাল অপারেটর গোলাম মোস্তফা ও প্রণব কুমার সরকার।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত অভিযুক্তরা পরস্পরের যোগসাজশে ৭৪ জন গ্রাহকের কাছ থেকে সঞ্চয় হিসাব খোলার নামে প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু ওই অর্থ সরকারি হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। পরে ১৩ জন গ্রাহকের প্রায় ২০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হলেও ৬১ জনের ৯১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা এখনো ফেরত দেওয়া হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শিহাব মৃধার ভাই মাহবুব হাসান মৃধা, তাঁদের মা শিউলী বেগম এবং মামা রেজাউল আলম ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে গ্রাহকদের টাকা ফেরতের অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তা পরিশোধ করেননি।
ডাক বিভাগের তথ্যমতে, লেটার রাইটার কোনো স্থায়ী বা রাজস্বভুক্ত পদ নয়। কিছু ডাকঘরে কাজের সুবিধার জন্য অস্থায়ীভাবে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযুক্ত শিহাব মৃধা বর্তমানে পলাতক।
এর আগে গত ৩০ জুলাই একই ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহক নাছরিন আক্তার দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্রসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন এবং আগামী ৩ নভেম্বর হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ বলেন, বিভাগীয় তদন্তে দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা না করায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শিহাব মৃধা ২০২১ সাল থেকে ‘হেল্পিং হ্যান্ডস’ হিসেবে লেটার রাইটারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ও তাঁর ভাই সরকারি কর্মচারী নন। চলতি মাসে এক গ্রাহকের কাছে সাদা কাগজের রসিদ পাওয়ার পর অনিয়মের বিষয়টি সামনে আসে।