ভোট দিচ্ছেন দুই নারী। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বড়সাতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ১২ ফেব্রুয়ারি
ভোট দিচ্ছেন দুই নারী। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বড়সাতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, ১২ ফেব্রুয়ারি

কুমিল্লার ১১ আসন

গড়ে ভোট পড়েছে সাড়ে ৫৬ শতাংশ, জামানত হারিয়েছেন ৫৯ প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনে গড়ে ভোট পড়েছে ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে কুমিল্লা-৯ আসনে। বিপরীতে সবচেয়ে কম উপস্থিতি ছিল কুমিল্লা-১১ আসনে। জেলায় সব মিলিয়ে ৮৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। তাঁদের ৭১ শতাংশেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে বিএনপি, ১টি করে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ৯ হাজার ৯৩৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন কুমিল্লা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন। সব কটি আসনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

গড় ভোটের হার

১৭টি উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ৪৯ লাখ ৯২ হাজার ২১৬ জন। তাঁদের মধ্যে ২৮ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৯ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। গড়ে ভোট পড়েছে ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। সারা দেশে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সেই হিসাবে কুমিল্লায় ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল।

সঠিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার কারণে ১১টি আসনে প্রদত্ত ভোটের মধ্যে ৭৩ হাজার ১৬০টি ভোট বাতিল হয়েছে। সবচেয়ে বেশি কুমিল্লা-১০ আসনে ৯ হাজার ১৯৭টি এবং সবচেয়ে কম কুমিল্লা-৪ আসনে ৪ হাজার ২৮২টি ভোট বাতিল হয়েছে।

ভোটের হার কোথায় কেমন

ফলাফল বিশ্লেষণে ১১টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ ভোট পড়েছে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে। অন্যদিকে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে। এখানে ৪ লাখ ২১ হাজার ৬৩২ জন ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ১৯ হাজার ৫১১ জন ভোট দিয়েছেন, যা প্রদত্ত ভোটের ৫২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।

এ ছাড়া অন্যান্য আসনের মধ্যে কুমিল্লা-১ আসনে ৫৭ দশমিক শূন্য ১, কুমিল্লা-২ আসনে ৫৪ দশমিক ৯৮, কুমিল্লা-৩ আসনে ৫৬ দশমিক ৬৫, কুমিল্লা-৪ আসনে ৫৪ দশমিক ৪৮, কুমিল্লা-৫ আসনে ৫৬ দশমিক ৮৮, কুমিল্লা-৬ আসনে ৫২ দশমিক ৮৩, কুমিল্লা-৭ আসনে ৫৬ দশমিক ৫৪, কুমিল্লা-৮ আসনে ৫৯ দশমিক ৫৬, কুমিল্লা-৯ আসনে ৬৫ দশমিক শূন্য ১ ও কুমিল্লা-১০ আসনে ৫৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন।

বিজয়ীদের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভোটের ব্যবধান

১১টি আসনের বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি ২ লাখ ১ হাজার ৭০৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ৭৭ হাজার ৩৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন কুমিল্লা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া।

সবচেয়ে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের (সুমন)। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৯ হাজার ১৭৮ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শফিকুল আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৪৫ হাজার ৯১ ভোট পেয়েছেন। তিনি ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে কুমিল্লা-৪ আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৯৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন কুমিল্লা-৫ আসনের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোবারক হোসাইন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়েছেন। মাত্র ৯ হাজার ৯৩৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বিএনপির প্রার্থী।

৫৯ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত

কুমিল্লার ১১টি আসনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন দলের ৮৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে একজন সাবেক সংসদ সদস্যসহ ৫৯ জন জামানত হারিয়েছেন। অর্থাৎ ৭১ ভাগের বেশি প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বিধি অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে আট ভাগের একভাগ ভোট পেতে হবে প্রার্থীকে। অন্যথায় তাঁর জামানত বাবদ জমা দেওয়া টাকা বাজেয়াপ্ত হবে। সেই হিসেবে কুমিল্লায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে মাত্র ২৪ জনের জামানত টিকেছে। ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় পার্টি, এবি পার্টি, বাসদ, জাসদ, সিপিবিসহ বেশ কয়েকটি দলের প্রার্থীদের কেউই নিজেদের জামানত রক্ষা করতে পারেননি।

ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কুমিল্লা-১ আসনে সাতজন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ জাসদের বড়ুয়া মনোজিত ধীমন সবচেয়ে কম ১৪৪ ভোট পেয়েছেন। কুমিল্লা-২ আসনে জামানত হারিয়েছেন তিনজন, তাঁদের মধ্যে জাতীয় পার্টির আমির হোসেন সবচেয়ে কম ৫৭০ ভোট পেয়েছেন। তিনি ২০১৪ সালের ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনে এখানে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। কুমিল্লা-৩ আসনে সাতজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, সবচেয়ে কম ভোট ১১১ ভোট পেয়েছেন বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টির মো. এমদাদুল হক।

কুমিল্লা-৪ আসনে তিনজন জামানত হারিয়েছেন, সবচেয়ে কম ২৪৮ ভোট পেয়েছেন খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ মজিবুর রহমান। কুমিল্লা-৫ আসনে আটজনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে; সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী ৩৪২ ভোট পেয়েছেন। কুমিল্লা-৬ আসনে সাতজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে; সবচেয়ে কম ১৫৩ ভোট পেয়েছেন মুক্তিজোটের আমির হোসেন ফরায়েজী। এ ছাড়া কুমিল্লা-৭ আসনে দুজন, কুমিল্লা-৮ আসনে ছয়জন, কুমিল্লা-৯ আসনে ছয়জন, কুমিল্লা-১০ আসনে পাঁচজন ও কুমিল্লা-১১ আসনে পাঁচজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।