
রাজশাহীতে টানা তিন দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দিনের বেলায় আকাশ পরিষ্কার থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আজ শুক্রবার সকালে জেলায় চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৯টায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগে সকাল ৬টার দিকে তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দুই দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে হিসাবে আজকের তাপমাত্রাই চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন।
আবহাওয়াবিদদের মতে, কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে একে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি এবং ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামলে সেটিকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করে। এরপর টানা তিন দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। দিন-রাত ঘন কুয়াশার মতো পরিস্থিতির সঙ্গে হালকা বৃষ্টিও হয়েছে। তবে গত বুধবার থেকে দিনের বেলায় সূর্যের দেখা মিলতে শুরু করে। এতে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও রাত ও ভোরের দিকে শীত আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক তারেক আজিজ বলেন, গত তিন দিন ধরে রাজশাহীতে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। দিনের বেলায় তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও রাত থেকে ভোর পর্যন্ত তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন থাকতে পারে।
আজ ভোর থেকেই রাজশাহীতে সূর্যের দেখা মিলেছে। তবে সকাল ১০টা পর্যন্ত রোদ থাকলেও শীতের দাপট কমেনি। নগরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ বাইরে বের হলেও মোটা শীতের পোশাক পরে চলাচল করছেন।
নগরের জাদুঘর মোড়ে কথা হয় রিকশাচালক রমজান আলীর সঙ্গে। সকাল ১০টার পরও তাঁর গায়ে ছিল মোটা জ্যাকেটের ওপর চাদর। তিনি বলেন, রোদ উঠছে, কিন্তু শীত কমছে না। বাতাস অনেক বেশি। রোদ গায়ে ঠিকমতো লাগছে না।
শীতের তীব্রতার প্রভাব পড়েছে নগরের ফুটপাতের বেচাকেনাতেও। আজ রাজশাহীর সাহেববাজার, সোনাদিঘি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে শীতের পোশাক বিক্রি হতে দেখা গেছে। সকাল থেকেই এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। শীতের পোশাক ১০০ থেকে শুরু করে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
নগরের কুমারপাড়া এলাকায় মো. বাবলু ভারী জ্যাকেট বিক্রি করছিলেন। তিনি বলেন, গত কয়েক দিন খুব ভালো বিক্রি হচ্ছে। টানা কয়েক দিন রোদ ছিল না, হালকা বৃষ্টির মতোও হয়েছে। এখনো শীত কমেনি। ক্রেতা আবু সাঈদ বলেন, ‘শুক্রবারে ফুটপাতে নতুন কাপড় আসে। একটা জ্যাকেট কিনতে এসেছি। কিন্তু দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে।’
এদিকে পুঠিয়া থেকে আসা ভ্যানচালক আবু বকর ৫০০ টাকায় একটি ভারী জ্যাকেট কিনেছেন। তিনি বলেন, খুব সকালে ডাব নিয়ে বের হন। কয়েক দিন শীতে খুব কষ্ট পেয়েছেন। তাই একটি মোটা কাপড় কিনলেন।
শীতের এই পরিস্থিতিতে বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। নগরের তালাইমারী এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টার পরও কয়েকজন শ্রমজীবী মানুষকে বসে থাকতে দেখা গেছে। রাজশাহীর চারঘাটের বাসিন্দা মিঠু শেখ জানান, সকালে কাজের সন্ধানে এসেছিলেন। অনেকেই কাজ না পেয়ে ফিরে গেছেন।