
‘ভোট দেওয়ার জন্য অনেক এক্সাইটেড ছিলাম। সারা রাত ঘুমাইনি। বাবা-মা এখনো ঘুমাচ্ছেন। আমি ভোট দিতে চলে এসেছি। একাই এসেছি। ভোট দেওয়া শেষ করে বাসায় গিয়ে ঘুমাব। প্রথমবারের মতো ভোট দিতে এসে ভালো লাগছে।’
কথাগুলো বলছিলেন রামিসা আনজুম। সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন তিনি। এবারই তিনি প্রথমবারের মতো কোনো নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটায় নগরের প্রবর্তক মোড় এলাকায় শিশু একাডেমি কেন্দ্রে গিয়ে কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
রামিসা আনজুম বলেন, তাঁর বাসা হিলভিউ আবাসিক এলাকায়। গত বছর ভোটার হয়েছেন তিনি। তাই ভোট দেওয়া নিয়ে কয়েক দিন ধরেই উৎসাহ-উদ্দীপনায় দিন কেটেছে তাঁর।
উৎসবমুখর পরিবেশে এবারই জীবনের প্রথম ভোট দিচ্ছি। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের আমল আর ফিরে না আসুক, এটাই চাওয়া।মমিনুল ইসলাম, ভোটার, চট্টগ্রাম-৯।
রামিসার মতো চট্টগ্রাম শিশু একাডেমি কেন্দ্রে ভোর থেকেই ভোট দিতে হাজির হয়েছেন অনেকে। তাঁদের মধ্যে প্রবীণ ভোটার যেমন রয়েছেন, তেমন নবীন ভোটারও রয়েছেন। প্রবীণদের একজন গৃহিণী নিগার সুলতানা (৫৫)। তিনি তাঁর স্বামীকে নিয়ে কেন্দ্রে এসেছেন। দুজন আলাদাভাবে লাইনেও দাঁড়িয়েছেন। জানতে চাইলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, অনেক দিন তিনি ভোট দিতে পারেননি। তাই এবার সকালে এসেই ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। অনেক দিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট আয়োজন দেখে ভালো লাগছে।
কেন্দ্রটিতে ভোটারের সারিতে ছিলেন নগরের চট্টগ্রাম কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী মমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, তিনি ভোটার হয়েছেন ২০১৮ সালে। তবে কখনো ভোট দিতে কেন্দ্রে যাননি। সে হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম ভোট। মমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘উৎসবমুখর পরিবেশে এবারই জীবনের প্রথম ভোট দিচ্ছি। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের আমল আর ফিরে না আসুক, এটাই চাওয়া।’
নগরের শিশু একাডেমি কেন্দ্রে চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনের ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন। আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন। এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ও ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের মধ্যে। আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুস শুক্কুর, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ, বাসদের (মার্ক্সবাদী) মো. শফি উদ্দিন কবির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ নঈম উদ্দীন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী ও জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৬ হাজার ৩৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৩ হাজার ৯০৬ জন, নারী ২ লাখ ২ হাজার ৪৪৮ জন ও হিজড়া ভোটার ৯ জন। এ আসনের ১২১টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হচ্ছে। শিশু একাডেমির এই কেন্দ্রে মোট ভোটার রয়েছেন ৬ হাজার ৪৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ৪০৫ এবং নারী ভোটার ৩ হাজার ৬৬ জন।
চট্টগ্রাম জেলায় মোট সংসদীয় আসন রয়েছে ১৬টি। এসব আসনে মোট ভোটার ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ ও হিজড়া ভোটার ৭০ জন। এসব আসনে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল প্রার্থী দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রার্থী রয়েছেন ১১৫ জন। এর মধ্যে বিএনপির ১৬ জন, ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ১৬ ও স্বতন্ত্র ১০ জন।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসেন মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৯৬৫টি। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৬৫৫টি। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চট্টগ্রাম-১৫ ( লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসন। এ আসনের ৫৯টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া নগরের খুলশী থানার ৪৭টি কেন্দ্রের ৪৪টিই ঝুঁকিপূর্ণ।