
চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ২৫টি রাজনৈতিক দল প্রার্থী দিয়েছে। তবে নারী প্রার্থী রয়েছে কেবল দুটি রাজনৈতিক দলের।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী আছেন কেবল চারজন। নগরের দুটি ও জেলার একটি আসনে নির্বাচন করছেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যে তিন প্রার্থী দুটি রাজনৈতিক দলের সদস্য এবং অন্যজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট ভোটারের প্রায় ৪৮ শতাংশ নারী হলেও প্রার্থীদের মধ্যে নারী মাত্র সাড়ে তিন শতাংশ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে এবার ২৫টি রাজনৈতিক দল প্রার্থী দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তবে তারা কেউ নারী প্রার্থী দেয়নি। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের দলগুলোও নারী প্রার্থী দেয়নি। দুটি আসনে বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও একটি আসনে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ নারী প্রার্থী দিয়েছে। একজন স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং–খুলশী–হালিশহর) আসনে দুজন নারী প্রার্থী রয়েছেন, তাঁরা হলেন বাসদের (মার্ক্সবাদী) আসমা আক্তার ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সাবিনা খাতুন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনে নির্বাচন করছেন বাসদের (মার্ক্সবাদী) দীপা মজুমদার। একমাত্র স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী জিন্নাত আকতার চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে নির্বাচন করছেন।
চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী বাসদের (মার্ক্সবাদী) দীপা মজুমদার গত শুক্রবার নগরে গোসাইলডাঙা ও সদরঘাট এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। আনু মাঝির ঘাট এলাকায় উঠান বৈঠক করছেন। সেখানে তাঁকে দেখা যায় মানুষের কাছে গিয়ে কাঁচি মার্কায় ভোট চাইতে। নারীরা কেউ তাঁর সঙ্গে করমর্দন করছেন। কেউ বুকে জড়িয়ে ধরছেন।
চট্টগ্রাম-১১ আসনে নারী ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ৯৪২ জন। মোট ভোটারে প্রায় ৪৯ শতাংশ নারী। আনু মাঝির ঘাট এলাকায় উঠান বৈঠকে আসা নারীরা দীপা মজুমদারকে তাঁদের নানা সমস্যার কথা জানান। তাঁদের ভাষ্য, এর আগে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেননি তাঁরা। গেলেও আগে থেকে ঠিক করে দেওয়া হয়েছে ভোট। এবার যাতে অন্তত ভোট দিতে পারেন।
দীপা মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভোটের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। মানুষ আমাদের উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করছেন। আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলছি। তাঁদের প্রত্যাশার কথা শুনছি। নারী প্রার্থী হিসেবে সবাই আমাদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। আমরা তাঁদের বলেছি, এবার নিজের পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারবেন তাঁরা।’
শুক্রবার নগরের ঈদগাহ এলাকা থেকে প্রচার শুরু করেছেন বাসদের (মার্ক্সবাদী) আরেক প্রার্থী আসমা আক্তার। তিনি চট্টগ্রাম-১০ আসনে নির্বাচন করছেন। আসমা আক্তার বলেন, ‘আগে নারীরা ভোটকেন্দ্রে যেতে চাইতেন না। তাঁদের ওপর নানা ধরনের চাপ ছিল। অনেকেই এখনো সন্দিহান, ভোট হবে কি না। প্রথম দিন বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষে তাঁর আবার আতঙ্কিত। আমরা তাঁদের ভয় কাটাতে চাই।’
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে একমাত্র চট্টগ্রাম-২ আসনের স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী জিন্নাত আকতার। গতকাল ফটিকছড়ির সমিতির হাট ইউনিয়নে প্রবীণ শিক্ষক ও নিজের সাবেক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন তিনি। এরপর সেখানে উঠান বৈঠক করেছেন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ২৯ হাজার ২৬৭ জন।
জিন্নাত আকতার এবার হরিণ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, ‘একমাত্র স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী হিসেবে আমি মানুষের কাছে গিয়েছি। এ আসনে মানুষের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। ভোটারদের ভালো সাড়া পাচ্ছি। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ভিড়ে এ সাড়া আমাদের আশা জাগাচ্ছে।’
চট্টগ্রাম-১০ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৪৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৩ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৪২ হাজার ৬৩২ জন। নগরের চারটি আসনের মধ্যে এ আসনেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নারী ভোটার। এ আসনে নির্বাচন করছেন ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সাবিনা খাতুন।
গত দুদিনে নগরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। নারীদের শিক্ষা, ভোটের অধিকার নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালিয়েছেন তিনি। সাবিনা খাতুন বলেন, ‘মা-বোনদের ঘরে বন্দী করে রাখা হয়েছিল এত দিন। তাঁদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে ও তাঁদের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলতে চাই। মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।’