ঢাকার কেরানীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতা হাসান মোল্লা গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার ১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মামলা দায়ের হয়নি। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
গুলিবিদ্ধ হাসান মোল্লা (৪২) কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে হযরতপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ের সামনে তাঁকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জগন্নাথপুর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’
ওই ঘটনার পর গতকাল রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) জাহাঙ্গীর আলম, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম ও ঢাকা জেলা দক্ষিণ ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর হাসান মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ও ছোট ভাই আনোয়ার ওয়াজ মাহফিলে গিয়েছিলাম। সেখানে থেকে বাসায় ফিরছিলাম। এ সময় দুজন কথা বলতে বলতে ফেরার পথে হঠাৎ হেলমেট পরিহিত দুজন সামনে এসে আমাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। একপর্যায়ে আমি চিৎকার দিয়ে দৌড় দিই। কিন্তু তখন কোনো মানুষ বের হয়নি। শুটাররা হেলমেট পরিহিত ছিল। গায়ে চাদরও ছিল। সে জন্য তাঁদের চিনতে পারিনি।’
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে হাসান মোল্লার স্ত্রী তুহিনা বেগম বলেন, ‘স্বামীর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘কে বা কারা কী কারণে তাঁকে গুলি করেছে, সেটি বুঝতে পারছি না।’