
গাজীপুরে ফিরে এসেছে কুষ্ঠ রোগ। সাত বছর আগে এ জেলায় কুষ্ঠ রোগী ছিলেন না একজনও। এই সময়ের মধ্যে এ রোগ ধরা পড়েছে ৩৩২ জনের। সোমবার দুপুরে গাজীপুর প্রেসক্লাবে কুষ্ঠ রোগ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ‘প্রয়াস—একসেলেরেটিং লেপ্রোসি সার্ভিস প্রজেক্ট’-এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সভায় জানানো হয়, গাজীপুর জেলায় ৩৩২ জন কুষ্ঠ রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টঙ্গীতে ১৯২ জন। এরপরই রয়েছে গাজীপুর সদর এলাকায় ৭১ জন। এ ছাড়া কাপাসিয়ায় ৩০ জন, শ্রীপুরে ৩০ জন, কালিয়াকৈরে ৫ জন, কালীগঞ্জ ৪ জন কুষ্ঠ রোগী রয়েছেন।
দ্য লেপ্রোসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের চিকিৎসা কর্মকর্তা পবন রোজারিও জানান, ২০১৬ সালের আগে গাজীপুরের কুষ্ঠ রোগী ছিল শূন্যের কোঠায়। ২০১৬ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত জরিপ অনুযায়ী এ জেলায় কুষ্ঠ রোগী এখন ৩৩২ জন।
জেলায় কুষ্ঠ রোগী বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুরের সিভিল সার্জন মো. খাইরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, কুষ্ঠ রোগী নিয়ে আগে তেমন কোনো কাজ হতো না, তাই এটি দেখা যায়নি। এখন কুষ্ঠ রোগ নিয়ে প্রচুর কাজ হচ্ছে, তাই এটা সামনে আসছে।
কুষ্ঠ রোগকে প্রাচীন রোগ উল্লেখ করে পবন রোজারিও বলেন, এটা সমাজে এখনো মানুষের জন্য আতঙ্ক। এখনো এ রোগ হলে সমাজে কেউ প্রকাশ করতে চান না। বিশেষ করে নারীরা একেবারেই প্রকাশ করতে চান না। চিকিৎসায় কুষ্ঠ রোগ শতভাগ ভালো হয়। সমাজে কুসংস্কার রয়েছে, এ রোগ ভালো হয় না। এ কুসংস্কার দূর করতে হবে।
কুষ্ঠ রোগের লক্ষণের বিষয়ে পবন রোজারিও জানান, প্রথমে ত্বকে দাগ হয়। বিভিন্ন রঙের দাগ হয়। অন্য কোনো রোগে দাগ হলে চুলকানি থাকে বা ব্যথা থাকে। কুষ্ঠ রোগের দাগ থাকলে বোধশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। এই রোগের কোনো প্রতিষেধক নেই। এটা মৃদু রোগ। কারও শরীরে এটা থাকলে, সেই পরিবারের আরেকজনের হতে পারে। এ রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত না হলে পড়ে এটা বেড়ে যায়।
দেশে একমাত্র কুষ্ঠ রোগের পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বান্দা বাড়িতে। ‘প্রয়াস—একসেলেরেটিং লেপ্রোসি সার্ভিস প্রজেক্ট’-এর ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, কুষ্ঠ একটি মৃদু সংক্রামক রোগ, জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়, জীবাণু হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ছড়ায়। অধিকাংশ কুষ্ঠ রোগীই রোগের জীবাণু ছড়ায় না। চিকিৎসা নিলে এ রোগ ভালো হয়। চিকিৎসা নিতে বিলম্ব হলে বিকলাঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মতবিনিময় সভায় আরও জানানো হয়, ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৯২৮। গাজীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, জেলার প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে রোগীর ত্বকে উপসর্গ থেকে কুষ্ঠ রোগী খুঁজে বের করা হচ্ছে।