কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে পরিবেশকের সার বিক্রয়কেন্দ্রের তালা ভাঙার চেষ্টা করেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। আজ বুধবার সকালে রাজিবপুর বাজারে
কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে পরিবেশকের সার বিক্রয়কেন্দ্রের তালা ভাঙার চেষ্টা করেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা। আজ বুধবার সকালে রাজিবপুর বাজারে

বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ

বিএনপি নেতার সার বিক্রয়কেন্দ্রের তালা ভাঙার চেষ্টা ক্ষুব্ধ কৃষকদের

কুড়িগ্রামের রাজীবপুরে সরকারি বরাদ্দের ইউরিয়া সার গুদামে রেখে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতা পরিবেশকের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার সকালে উপজেলার রাজীবপুর বাজারে তাঁর বিক্রয়কেন্দ্র ‘শফি এন্টারপ্রাইজ’–এর তালা ভেঙে সার নেওয়ার চেষ্টা করেন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা।

পরে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং গুদামে থাকা সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন।

শফিউর রহমান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও রাজীবপুরের নিবন্ধিত সার ডিলার। ওই ঘটনার পর তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

রাজীবপুর বাজারে শফিউর রহমানের সার বিক্রয় কেন্দ্র অবস্থিত। এর সঙ্গেই তাঁর গুদাম। কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শফিউর রহমানের গুদামে ৫০০ বস্তা ইউরিয়া সার মজুত ছিল। সকালে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণের জন্য স্লিপ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছিল। এতে কৃষকের মধ্যে ক্ষোভের তৈরি হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁরা গুদামের তালা ভেঙে সার বের করার চেষ্টা করেন।

ঘটনাস্থলে অপেক্ষমাণ কৃষক মফিজুল হক ও আবদুল হাকিম বলেন, সার পাওয়ার আশায় তাঁরা রাত তিনটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। অন্য ডিলারদের তুলনায় শফিউর রহমানের গুদামে সার বেশি থাকলেও তা আটকে রাখা হয়েছিল। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে বিএনপির এই নেতা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছিলেন বলে তাঁদের অভিযোগ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা শফিউর রহমান বলেন, ৫০০ বস্তা সারের বিপরীতে কয়েক শ কৃষক ভিড় করেছেন। বিশৃঙ্খলা এড়াতে পাশের একটি বাড়ি থেকে স্লিপ দেওয়া হচ্ছিল। কিছু লোক উসকানি দিয়ে গুদামে হামলা চালিয়েছেন। সারের দাবিতে হামলাকারীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের কয়েকজন ‘চিহ্নিত ব্যক্তি’ ছিলেন, যাঁদের কোনো আবাদি জমি নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক আল জুবায়ের জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সার বিতরণ সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

এদিকে রাজীবপুরের আরেক সার ডিলার আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৩৫০ টাকার সরকারি সার ১ হাজার ৭৩০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা। আবদুল হাই চট্টগ্রাম থেকে বাড়তি দামে সার কিনে আনার অজুহাত দেখালেও, সরকারি সার আটকে রেখে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি আইনবহির্ভূত বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সারসংকট ও বিশৃঙ্খলার বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ প্রথম আলোকে বলেন, রাজীবপুরে কৃষি কর্মকর্তা ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হয়েছে। ডিলার শফিউর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।