মাদারীপুরের কালকিনিতে শিশুধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক কৃষকের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচর এলাকায়
মাদারীপুরের কালকিনিতে শিশুধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক কৃষকের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচর এলাকায়

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে কৃষকের ঘরে আগুন, লুটপাট

মাদারীপুরের কালকিনিতে শিশুধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে এক কৃষকের বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামের ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে কৃষক হাবুল শিকদারের (৫৫) বিরুদ্ধে। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ সরদারের নেতৃত্বে সালিস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য আজ বিকেলে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই পক্ষকে হাজির হতে বলা হয়। তবে হাবুল শিকদার না আসায় সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে উত্তেজিত জনতা হাবুল শিকদারের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঝাড়ুমিছিল বের করে। ওই মিছিল থেকে তাঁর বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। তাঁর বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কালকিনি থানা–পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

স্থানীয় একটি পক্ষের দাবি, মধ্যেরচর এলাকার আনোয়ার সরদারের পরিবারের সঙ্গে হাবুল শিকদারের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। এ কারণে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করতে ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে মব তৈরি করে এই ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়।

এদিকে আজ দুপুরে হাবুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চলে যান। জানতে চাইলে হাবুল শিকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের জের থেকে আমার নামে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হয়েছে। আমি আগেই জানতাম যে আমার ওপর হামলা হবে। চেয়ারম্যান আমার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কারণ, আমি তাঁর নির্বাচন করিনি। তিনি সবাইকে উত্তেজিত করে ও ইন্ধন দিয়ে আমার বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিছেন। ওরা আমার সবকিছু শেষ কইরা দিছে। আমি এর বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাহেবরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুরাদ সরদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার কাছে মীমাংসার জন্য আসলে আমি দুই পক্ষকে ডাকি। কিন্তু হাবুল আসে নাই। তাই উত্তেজিত লোকজন হাবুলের বাড়িতে আগুন দিছে। এখানে আমার নেতৃত্ব বা ইন্ধন নাই।’ ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা মীমাংসাযোগ্য কিনা জানতে চাইলে মুরাদ সরদার বলেন, ‘আমি মীমাংসা করতে চাই নাই। তারা বলায় মীমাংসা করতে রাজি হই। এখানে আমার ভুল কোথায়?’

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।