চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের দরজায় লেখা—বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের দরজায় লেখা—বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন

ইউএনও কার্যালয়ের দরজায় লেখা—‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন, ধাক্কা দিন’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের দরজায় লেখা—‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করুন, ধাক্কা দিন’। সরকারি অফিসে ঢোকার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভয়, সংকোচ ও দ্বিধা দূর করতে এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ইউএনও মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, অনুমতি ছাড়াই ইউএনওর সঙ্গে দেখা করছেন সেবাগ্রহীতারা। প্রতিদিনই বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও সেবার আশায় আসা মানুষের যাওয়া–আসা তাঁর কার্যালয়ে। ধৈর্য নিয়ে সবার কথা শুনছেন। সাধ্যমতো সমস্যার সমাধান ও সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন ইউএনও।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস আজ রোববার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, খায়রুন্নেছা নামের সত্তরোর্ধ্ব এক নারী ইউএনওর সঙ্গে কথা বলছেন। মনোযোগ দিয়ে ওই নারীর কথা শুনছেন তিনি। একপর্যায়ে পরম স্নেহে ইউএনওর মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দেন ওই নারী।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ইউএনও এই ব্যবস্থা চালু করেন। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সরকারি সেবা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে জনবান্ধব প্রশাসনের এই চর্চা চালু করায় প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। সেবাগ্রহীতাদের প্রত্যাশা, অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের সংকোচবোধ ছাড়াই সেবা নিতে পারে, এমন ব্যবস্থা যেন চালু হয়।

হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া সুলতানা বলেন, ‘বিভিন্ন প্রয়োজনে আমরা শিক্ষকেরাও এসে অন্য সময় অনুমতি নিয়ে প্রবেশ করতাম। কিন্তু এখন আর সেই বিড়ম্বনা নেই। এখন সরাসরি ঢুকেই কথা বলে চলে আসি।’

সাক্ষাৎ শেষে ইউএনও মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন খায়রুন্নেছা

ইউএনওর এমন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন আরও অনেকে। হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম রহমান বলেন, ‘আগে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে গেলে আনসার বা অফিসের পিয়নরা বাইরে বসিয়ে রেখে অনুমতি নিতে যেতেন। এখন কোনো অনুমতি ছাড়াই যেতে পারছি।’

সেবাগ্রহীতারা কোনো ধরনের সংকোচ ছাড়াই যাতে সেবা পেতে পারেন, সে জন্য এ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান ইউএনও ইবনে আল জায়েদ হোসেন। তিনি বলেন, সরকারি অফিসে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ সেবা নিতে এসে অনেক সময় ইতস্তত বোধ করে। এমনিতেই সেবার দরজা সব সময়ই উন্মুক্ত থাকে। তারপরও কেউ যেন দ্বিধা বা সংকোচবোধ না করে, সে জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।