বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ ‘জামাই মেলা’
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ ‘জামাই মেলা’

নির্বাচনের ডামাডোলে এবার হচ্ছে না বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’

নির্বাচনের ডামাডোলে এবার হচ্ছে না বগুড়া অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ ‘জামাই মেলা’। বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের পোড়াদহ এলাকায় ইছামতী নদীর তীরে বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষ বুধবার দিনব্যাপী এই মেলা বসে। এই হিসাবে আজ এই মেলা বসার কথা ছিল।

মেলার আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে বুধবার মেলা আয়োজন করা হয়নি। এর আগে এক–দুই বছর মেলা এক সপ্তাহ পিছিয়ে ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার হয়েছে। তবে পবিত্র রমজান আসন্ন হওয়ায় এবার মেলা আয়োজন সম্ভব হবে না।

মেলা কমিটির সভাপতি ও গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বলেন, আজ মাঘ মাসের শেষ বুধবার এ মেলা আয়োজনের কথা ছিল। একদিন পর বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ কারণে এ বছর মেলা হচ্ছে না। মেলায় অন্তত ২০ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়। কোটি কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হয়। এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীরা হতাশ হলেও এবার অনিবার্য কারণে মেলা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।

ঐতিহ্যবাহী এই মেলা ঘিরে গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়ন ছাড়াও আশপাশে গাবতলী সদর, দুর্গাহাটা, বালিয়াদিঘি ও নশিপুর ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামে ঘরে ঘরে জমে ওঠে জামাই উৎসব। শ্বশুরবাড়িতে নিমন্ত্রণ পেয়ে হাজির হন জামাইরা। চারদিকে থাকে উৎসব আমেজ। এই মেলায় বড় বড় মাছ কিনে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাওয়ার শত বছরের চল আছে। মেলা উপলক্ষে আশপাশের গ্রামের বউয়েরা বাবার বাড়িতে নাইওর আসেন। পোড়াদহ মেলায় লাখো মানুষের ভিড়ের কারণে মেয়েরা মেলায় আসতে পারেন না। এ জন্য এক দিন পর নারীদের জন্য বউ মেলার আয়োজন করা হয় এখানে। এই বউ মেলায় পুরুষদের আসার অনুমতি নেই।

জামাই মেলার প্রধান আকর্ষণ বড় বড় মাছ। এ ছাড়া হরেক পদের মিষ্টান্ন, খেলনা, কাঠের আসবাব, প্রসাধনীর দোকান ছাড়াও চরকি, নাগরদোলা, মৃত্যুকূপে মোটরসাইকেল খেলা, সার্কাসসহ নানা আনন্দের আয়োজন থাকে।