
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
আজ মঙ্গলবার সকালে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা দক্ষিণ বহুমুখী স্কুল-সংলগ্ন মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মামুনুল হক এ কথা বলেন। এ সময় তিনি সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য–সমর্থিত ও জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চান।
সভায় মামুনুল হক বলেন, ‘দেশের প্রতিটি মানুষ পরিবর্তন চায়, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অবসান চায়। দেশের মানুষ পুরাতন কাউকে ক্ষমতায় আনতে চায় না। দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে পরিবর্তনের আওয়াজ। অনেকেই বলছেন, সবাইকে দেখেছি, এবার ইসলামি দলগুলোকে ক্ষমতায় দেখতে চাই। দেশে আগামী দিনে শুধু বাংলাদেশপন্থীদের রাজনীতি চলবে। কারণ, এই দেশ হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দেশ। শাহজালালের পুণ্যভূমি সিলেট আগামী দিনে ইসলামপন্থীদের ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হবে।’
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘হ্যাঁ যদি জয়লাভ করে, তাহলে গণ-অভ্যুত্থান জিতে যাবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে।’
এদিকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা সদরের জে কে স্কুল মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন মাওলানা মামুনুল হক। সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো দল বা ব্যক্তিকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ১১ দল গঠন করিনি। আমরা দল গঠন করেছি এ দেশের মানুষের ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য। ১২ ফেব্রুয়ারি যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় বা জনগণের ভোটকে প্রভাবিত না করা হয়, তাহলে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ১১ দল জয়ী হবে এই নির্বাচনে।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘দেশপ্রেমিক সকল শক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপিসহ ১১ দল হাতে হাত রেখে চীনের প্রাচীরের মতো আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমরা ইতিহাসের একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে এক হয়েছি। অতীতের জরাজীর্ণ, লুণ্ঠন ও দুর্নীতির বাংলাদেশকে একটি শোষণমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশে পরিণত করা হবে।’
মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি, আমাদের মা-বোনেরা যখন ১১ দলের প্রচারণায় কাজ করছে, ঠিক তখনই একটি গোষ্ঠী আমাদের মা-বোনের হিজাব নিয়ে সমালোচনা করছে। আমরা সাবধান করে দিতে চাই। আমাদের মা-বোনের হিজাবে হাত দিবেন না। দিলে যে আগুন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে, তা আর সামাল দিতে পারবেন না।’
মামুনুল হক বলেন, ৫৪ বছরের শোষণ, বৈষম্য ও আধিপত্যবাদী শক্তির কবল থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করার জন্যই ২৪–এর জুলাই বিপ্লব হয়েছিল। বাংলার দামাল সন্তানেরা বুক পেতে মাঠে নেমেছিল। বুলেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল আবু সাঈদেরা। যে রক্ত দিয়েছিল তা প্রতিষ্ঠার জন্য এ জুলাই সনদ, যা বাস্তবায়নে তিনি গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। শেষে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সিরাজুল ইসলামকে পরিচয় করিয়ে দেন।