কক্সবাজারের হোটেল–মোটেল জোন
কক্সবাজারের হোটেল–মোটেল জোন

কক্সবাজারের আবাসিক হোটেলের শৌচাগারে মিলল নারীর গলাকাটা লাশ, কক্ষে আড়াই বছরের শিশু

কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের শৌচাগার থেকে এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাত আটটার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ‘স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্ট’ নামের হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম কুলছুমা আকতার (২৫)। পুলিশ ধারণা, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তাঁর আড়াই বছর বয়সী শিশুও হোটেল কক্ষে অবস্থান করছিল। পরে শিশুটিকে পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, কুলছুমা জেলার ঈদগাঁও উপজেলার বাসিন্দা। পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী মো. হারুণের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন তিনি। বিচারাধীন ওই মামলার শুনানির দিন ছিল গতকাল। ওই মামলার হাজিরা দিতে কুলছুমা ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজার এসে ওই হোটেলে ওঠেন। পরে রাতে ওই হোটেল কক্ষের শৌচাগার থেকে তাঁর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে এক ব্যক্তির সঙ্গে কুলছুমা হোটেলে আসেন। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে হোটেলটির ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। তাঁদের সঙ্গে শিশুটিও ছিল। বুধবার সকাল থেকে তাঁরা বাইরে ছিলেন। এরপর বেলা তিনটার দিকে তাঁরা ফিরে আসেন। পরে রাতে হোটেলটির শৌচাগারে কুলছুমার রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্বামী পরিচয়ে যে ব্যক্তি কুলছুমার সঙ্গে ছিলেন, তিনি কৌশলে হোটেল থেকে পালিয়ে গেছেন।

জানতে চাইলে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, নিহত কুলছুমার সঙ্গে কক্ষে থাকা ব্যক্তি তাঁর স্বামী হারুন নন। হোটেল কক্ষে থাকা ব্যক্তির ঠিকানার সঙ্গে নিহত কুলছুমার পরিবারের সদস্যদের চেনাজানা নেই। হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। এর নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই হোটেলের দুই কর্মচারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।