জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবসকে ঘিরে গোপালগঞ্জে বাড়তি সতর্কতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ দুপুর আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকায়
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবসকে ঘিরে গোপালগঞ্জে বাড়তি সতর্কতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আজ দুপুর আড়াইটার দিকে গোপালগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকায়

৫ আগস্ট ঘিরে গোপালগঞ্জে বাড়তি নিরাপত্তা, বিজিবি-এপিবিএন মোতায়েন

জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবসকে (৫ আগস্ট) কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশের পাশাপাশি আট প্লাটুন এপিবিএন, পাঁচ প্লাটুন বিজিবি ও পাঁচ প্লাটুন আরআরএফ দায়িত্ব পালন করছে। সার্বক্ষণিক টহল ও নজরদারির মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

আজ শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লঞ্চঘাট এলাকায় একটি সাঁজোয়া যান রাখা। গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের দক্ষিণ পাশের সড়কে প্রতিবন্ধক বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পোস্ট অফিস মোড়, এলজিইডি মোড় ও এসএম মডেল স্কুল মোড়েও পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, গোপালগঞ্জ একটি বিশেষ জেলা। সে কারণে আগে থেকেই পুলিশ সতর্ক আছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। এরপর তাঁর জন্মস্থান গোপালগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কে গাছ ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, কয়েকজন সেনাসদস্যকে আহত করা এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে দলটির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে।