ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাজীপুরের শ্রীপুরের গাজীপুর সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। আজ শনিবার ঈদের তৃতীয় দিন পার্কের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে কোর সাফারি, পাখিশালা ও বিভিন্ন অ্যাভিয়ারি এলাকা দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখর হয়ে উঠেছে।
আজ বেলা ২টায় দেখা যায়, পার্কের প্রধান ফটকের অদূরে টিকিট কাউন্টারে দর্শনার্থীদের ভিড়। প্রবেশের জন্য টিকিট সংগ্রহ করছেন তাঁরা। ভেতরে ঢোকার পর কোর সাফারির সামনে দেখা যায় দীর্ঘ সারি। পর্যটক বাসে করে নিরাপদে বন্য প্রাণী দেখার জন্য সেখানে টিকিট কাটতে ব্যস্ত দর্শনার্থীরা। কোর সাফারিতে আটটি পর্যটক বাসে করে দর্শনার্থীরা বিশাল এলাকা ঘুরে বিভিন্ন প্রাণী দেখছেন। এসব প্রাণীর মধ্যে রয়েছে বাঘ, সিংহ, জেব্রা, ভাল্লুক, ওয়াইল্ড বিস্ট, গয়াল ও বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ।
পাখিশালায় প্রবেশ করে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে ম্যাকাও পাখির খাঁচার সামনে। রঙিন ও বিশাল আকৃতির এসব পাখি দেখছেন দর্শনার্থীরা। পাশেই কাকাতুয়া, টিয়াসহ নানা প্রজাতির পাখি রাখা হয়েছে বড় খাঁচায়। নির্ধারিত টিকিটের মাধ্যমে খাঁচার ভেতরে প্রবেশ করে পাখির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা। অনেক ক্ষেত্রে পাখিগুলো দর্শনার্থীদের একেবারে কাছাকাছি চলে আসছে। কুমির, ময়ূর, পেলিক্যান অ্যাভিয়ারিসহ পার্কের বিভিন্ন স্থানেও দেখা গেছে দর্শনার্থীদের ভিড়।
কালিয়াকৈর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পার্কে ঘুরতে আসা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে পরিবারের সবাই মিলে বিভিন্ন প্রাণী দেখেছি। ঈদে দূরে কোথাও না গিয়ে কাছাকাছি ঘুরতে আসাই ভালো মনে হয়েছে।’
অন্য এক দর্শনার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ১৫০ টাকায় কোর সাফারির টিকিট কেটে অনেক প্রাণী দেখা গেলেও বাঘ দেখা যায়নি।
সিরাজুল ইসলাম নামের আরেক পর্যটক বলেন, আগের তুলনায় পার্কের সৌন্দর্য অনেকটাই কমে গেছে। এ অবস্থায় টিকিটের মূল্য কমানো উচিত। এত টাকা খরচ করে এখন তেমন বেশি প্রাণী দেখা যায় না।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান বলেন, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীরা পার্কে আসছেন। তাঁদের জন্য সরকারি সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এ ঈদের তৃতীয় দিন দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি মনে হচ্ছে। আজ দুপুর পর্যন্ত পার্কে ৮ থেকে ১০ হাজার দর্শনার্থী এসেছেন বলে ধারণা করছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, গাজীপুরের শ্রীপুরের ইন্দ্রপুর গ্রামে অবস্থিত গাজীপুর সাফারি পার্ক। এতে প্রবেশ টিকিটের মূল্য ৫০ টাকা। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে নেওয়া হয় ১০ টাকা। ভেতরে প্রবেশের পর বিভিন্ন প্রাণীর জন্য সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করতে আলাদাভাবে নির্ধারিত দামে টিকিট ক্রয় করতে হবে। পার্কটির প্রধান আকর্ষণ হলো আফ্রিকান কোর সাফারি। এটি একটি বিশেষায়িত প্রাণীর বাসস্থান, যেখানে কেবল আফ্রিকা থেকে আনা বাঘ, সিংহ, হরিণ, বন গরু, জেব্রাসহ আরও অনেক প্রাণী রয়েছে। পার্কের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ৮টি পর্যটক বাসে করে কোর সাফারি দেখার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পর্যটক বাসের টিকিট ফি ১৫০ টাকা। পার্কে রয়েছে ‘৯ ডি’ থিয়েটার। এখানে ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে প্রাণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্যচিত্র দেখানো হয়। কুমির প্রজননকেন্দ্র, প্রজাপতি পার্ক, প্রাণী জাদুঘর, ম্যাকাও, ময়ূর, কবুতরসহ বিভিন্ন ইভেন্ট রয়েছে পার্কজুড়ে।