গোয়ালঘরে আগের মতোই পড়ে আছে কেনা ঘাস, কিন্তু একটি গরুও নেই। এক রাতের ব্যবধানে চুরি হয়ে গেছে পাঁচটি গরু। পরিবারের সদস্যরা যেন বাইরে বেরোতে না পারেন, সে জন্য দরজায় বাইরে থেকে শিকল লাগায় চোরেরা। সোমবার রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় এক প্রবাসীর বাড়িতে এমন চুরির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সুসৃষ্টি গ্রামে সৌদিপ্রবাসী মোহসিন আলীর বাড়িতে তাঁর স্ত্রী আটটি গরু লালন–পালন করতেন। দুই সপ্তাহ আগে তিনটি গরু হাটে বিক্রি করা হয়। সোমবার গোয়ালঘরে একটি ষাঁড় ও চারটি বকনা গরু বেঁধে রাখা ছিল। পরদিন খাওয়ানোর জন্য আগেই ঘাস কিনে এনে রাখা হয়। তবে মঙ্গলবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, গোয়ালঘরের পাঁচটি গরুই চুরি হয়ে গেছে।
স্থানীয় লোকজনের ধারণা, চোরেরা পরিকল্পিতভাবে বাড়ির প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢোকে। পরে মূল ফটকের তালা কেটে গোয়ালঘরে প্রবেশ করে গরুগুলো নিয়ে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের আটকে রাখতে ঘরের দরজায় বাইরে থেকে শিকল লাগিয়ে দেওয়া হয়।
মোহসিন আলীর মা মনোয়ারা বেগম জানান, চুরি হওয়া পাঁচটি গরুর দাম প্রায় চার লাখ টাকা। বাড়িতে তাঁর ছেলের বউ ও নাতি-নাতনিরা থাকেন। সোমবার রাতে তাঁরা খাওয়াদাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। আজ ভোরে মোহসিনের স্ত্রী দরজা খুলতে গিয়ে দেখেন, বাইরে থেকে শিকল দেওয়া। বাড়ির মূল ফটকও খোলা ছিল। পরে জানালা দিয়ে ডাকাডাকি করলে প্রতিবেশীরা এসে দরজা খুলে দেন। বাইরে এসে দেখেন, গোয়ালঘরে একটি গরুও নেই।
প্রতিবেশী সানোয়ার হোসেন বলেন, এলাকায় মাঝেমধ্যেই গরু চুরির ঘটনা ঘটছে। দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এমন ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা গরু খুঁজতে বাইরে গেছেন। এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো মামলা হয়নি।