নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) দণ্ডপ্রাপ্ত দুই সদস্য। কুমিল্লা; ১৯ আগস্ট ২০২৬
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) দণ্ডপ্রাপ্ত দুই সদস্য। কুমিল্লা; ১৯ আগস্ট ২০২৬

মামলার দুই দশক পর এক নারীসহ ৩ জেএমবি সদস্যের কারাদণ্ড

কুমিল্লায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা মামলায় দুই দশকের বেশি সময় পর নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) এক নারী সদস্যসহ তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এই মামলার ঘটনাটি বেশ আলোচিত ছিল।

রায়ে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার কলমিডাঙ্গা গ্রামের মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু ওরফে সামাদ ওরফে রাজীব এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ দুরুল হুদা ওরফে হাসানকে ২০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তারকে (রানী) আট বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।

আজ বুধবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬) আদালতের বিচারক খাইরুন নেছা এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ গভীর রাতে জেএমবি সদস্যদের নাশকতার পরিকল্পনার খবর পেয়ে কুমিল্লা নগরের বিষ্ণুপুর এলাকার রৌশন ভিলায় অভিযান চালায় তৎকালীন র‍্যাব-৭-এর একটি দল। রাতভর ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বোমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য, রাসায়নিক পদার্থ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, ব্যাটারি, বিভিন্ন সরঞ্জামসহ এই তিনজনকে আটক করা হয়।

ওই সময় র‍্যাবের ঢাকার সদর দপ্তরের হেফাজতে থাকা জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর এলাকায় জেএমবি সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়।

অভিযানের পর তৎকালীন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।

মামলার দীর্ঘ বিচারকাজ চলাকালে আদালত বিভিন্ন সময়ে ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষীদের জবানবন্দির পাশাপাশি আসামিদের বক্তব্য, জব্দ তালিকা, উদ্ধার করা বিস্ফোরক দ্রব্য ও বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামের তথ্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কাইমুল হক (রিংকু) বলেন, ঘটনাটি সে সময় কুমিল্লায় বেশ আলোচিত ছিল। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আসামিদের বক্তব্য, জব্দ তালিকা ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ দুরুল হুদাকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড আর খালেদা আক্তারকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। খালেদা আক্তারের সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁর তিন সন্তান থাকা, স্বামী দুরুল হুদা কারাগারে থাকা এবং তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর বেলা দুইটার দিকে সাজা পরোয়ানামূলে দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পুলিশ পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।