খুলশী থানা
খুলশী থানা

চট্টগ্রামে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে কিশোরকে খুন, আটক ৫

চট্টগ্রামে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে এক কিশোরকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে নগরের খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনি এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের অভ্যন্তরীণ বিরোধে ঘটেছে এই ঘটনা।

নিহত কিশোরের নাম মোহাম্মদ হৃদয় (১৬)। সে স্থানীয় ওয়ারলেস কলোনি বাজারে ভ্যানে সবজি বিক্রি করত। আটক পাঁচজনও একই এলাকার। তারা স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। কিশোর গ্যাংটি নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) ওয়াকিল হোসেন বগা নিয়ন্ত্রণ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নিহত কিশোরও কিশোর গ্যাংটির সদস্য ছিল। কয়েক দিন আগে তার সঙ্গে দলের কয়েকজনের ঝগড়া হয়। এই ঝগড়ার জেরে রাতে বাসা থেকে তাকে রাস্তায় ডেকে নিয়ে প্রথমে কান কেটে ফেলা হয়। পরে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় রাস্তা থেকে উদ্ধার করে স্বজনেরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক হৃদয়কে মৃত ঘোষণা করেছেন।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ওই কিশোরকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। তারা ওয়াকিলের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। ওয়াকিলকেও ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম নগরে বর্তমানে ২০০ কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে। একেকটি দলে রয়েছেন ৫ থেকে ১৫ জন। নগরজুড়ে এসব গ্যাংয়ের সদস্যসংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৪০০। পুলিশ বলছে, কিশোর গ্যাংয়ের পৃষ্ঠপোষকতা বা প্রশ্রয়ে ৬৪ ‘বড় ভাই’ আছেন। গত ৬ বছরে ৫৪৮টি অপরাধের ঘটনায় কিশোর গ্যাং জড়িত বলে জানায় পুলিশ।

২০২৪ সালের মার্চে নগর পুলিশের করা এক জরিপে উঠে আসে, চট্টগ্রামের স্কুলগুলোতে অনুপস্থিত থাকা ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর বেশির ভাগই জড়িয়ে পড়েছে অপরাধে। নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সামাজিক অস্থিরতা ও কিশোর গ্যাংয়ের উত্থানের কারণ খুঁজতে গিয়ে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পায় পুলিশ। এসব ছাত্র পর্নোগ্রাফি, সাইবার অপরাধ, ছিনতাই, চুরি, মাদক নেওয়া ও কেনাবেচা এবং অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে তারা বেছে নেয় স্কুলের সময়টা।