চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বাড়িতে ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী হরিপদ দাস। বৃহস্পতিবার দুপুরে পলাশবাড়ীর কুমারগাড়ি গ্রাম থেকে তোলা
চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বাড়িতে ফেরত নিয়ে যাচ্ছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী হরিপদ দাস। বৃহস্পতিবার দুপুরে পলাশবাড়ীর কুমারগাড়ি গ্রাম থেকে তোলা

আগ্রহ নেই পাইকারদের, চামড়া কিনে বিপাকে গাইবান্ধার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

গাইবান্ধা সদর উপজেলার চাপাদহ গ্রামের ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী মানিক চন্দ্র রবিদাস (৫৫)। প্রতিবছর ঈদুল আজহার দিনে সাইকেলে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চামড়া কেনেন। পরে জেলার ঐতিহ্যবাহী চামড়ার হাট পলাশবাড়ীতে ঢাকা থেকে আসা পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। পলাশবাড়ী হাট বসবে আগামী বুধবার। আজ হাটে বাইরের পাইকারেরা আসেননি। স্থানীয় পাইকারদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে গিয়েছিলেন মানিক। কিন্তু কেউ দামও বলেনি।

মানিক চন্দ্র রবিদাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদের দিন ধারদেনা করে প্রায় ৪০ হাজার টাকার গরুর চামড়া কিনেছি। পলাশবাড়ীতে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু কেউ দাম বলেনি। বাধ্য হয়ে অন্য জায়গায় ৬ হাজার টাকা লোকসান করে বিক্রি করেছি।’

গাইবান্ধায় এবার পশুর চামড়ার দাম অনেক কম। স্থানীয় চামড়ার পাইকারি আড়তগুলোতে চামড়ার আমদানি প্রচুর। কিন্তু পাইকারেরা চামড়া কিনছেন না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ধারদেনা করে চামড়ার ব্যবসায় লগ্নি করলেও সেই চামড়া তাঁরা বিক্রি করতে পারছেন না। চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী হরিপদ দাস (৫৫)। তিনি আজ পাশের কুমারগাড়ি গ্রাম ঘুরে ঘুরে চামড়া কিনেছেন। হরিপদ দাস বলেন, ‘আজকে ঈদের দিন ৫০ হাজার টাকার চামড়া কিনেছি। বিকেলে গাইবান্ধা শহরের একটি চামড়ার আড়তে বিক্রি করতে নিয়ে গিয়েছিলাম। পাইকারদের কেউ দাম করেননি। তাই বিকেল সাড়ে পাঁচটার পর বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। চামড়ায় লবণ দিয়ে রাখব। পরে বিক্রি করেও লাভ করতে পারব কি না চিন্তায় আছি।’

স্থানীয় পাইকারেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতি ঈদের পর যেদিন বুধবার, সেদিন পলাশবাড়ীতে হাট বসে। সেই হিসাবে আগামী বুধবার পলাশবাড়ী চামড়ার হাট বসার কথা আছে। এখানে গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলের সাতটি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চামড়া বিক্রি করতে আনেন। কিন্তু এবার ঈদের দিন থেকেই এই হাটে চামড়া উঠতে শুরু করেছে।

পলাশবাড়ী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মাহমুদুল হাসান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিবছর হাটের দিন ঢাকা থেকে ট্যানারির মালিকেরা চামড়া কিনতে আসেন। আগামী বুধবার তাঁদের আসার কথা। তাঁদের চাহিদার ওপর চামড়ার বাজার নির্ভর করছে।

চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার এবার ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৫৫ টাকা ও ছাগলের চামড়া ১২ থেকে ১৫ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গ্রাম ঘুরে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও ছাগলের চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা দামে কিনেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ক্ষুদ্র একজন চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, ‘দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে চামড়া কিনেছি। কেনার পর এখন বিপদে পড়েছি। কোনো মহাজন ছাগলের চামড়ার দামই করছেন না।’

গাইবান্ধা শহরের চামড়া ব্যবসায়ী আরশাদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনেছেন। ফলে তাঁদের কাছ থেকে বেশি দামে চামড়া কিনতে মহাজনেরা আগ্রহী হচ্ছেন না। এ ছাড়া এবার লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত পশুর চামড়া পাওয়া যাচ্ছে। এ জন্য স্থানীয় পাইকারেরা চামড়া কিনতে ভয় পাচ্ছেন।