পৌরসভাটির আওতায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ সড়কের অবস্থা বর্তমানে বেহাল। কিছু সড়ক আগে থেকেই ভাঙা ছিল। গত বছরের বন্যা ও এ বছরের জলাবদ্ধতায় সড়কগুলো আরও ভেঙেছে।
স্কুল থেকে ছেলেকে নিয়ে রিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন রোকেয়া বেগম। হঠাৎ সড়কের গর্তে ধপাস করে পড়ে রিকশার একটি চাকা। সড়কের ওপর উল্টে পড়তে গিয়ে কোনো রকমে রক্ষা পায় রিকশাটি। হুডের রড ধরে কোনোমতে নিজেকে সামলে নেন রোকেয়া। অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পান তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নোয়াখালী জেলার মাইজদী শহরের হাকিম কোয়ার্টার সড়কে ঘটে এ ঘটনা। রাস্তার খানাখন্দ দেখে রোকেয়া বেগম বলে ওঠেন, ‘রাস্তাগার এরুকুম দুরাবস্তা, বছরের হর বছর ভাঙাচোরা রাস্তা হরি রইছে, কেয় দেইকবার নাই। মানুষজন কীভাবে এই রাস্তাদি চলে?’
অবশ্য শুধু রোকেয়া বেগম নয়। তাঁর মতো প্রায় প্রতিদিনই এ ধরনের দুর্ভোগের শিকার মাইজদীর বাসিন্দারা। সড়ক ভাঙা থাকায় রিকশায় চড়তে গিয়ে ভোগান্তির পাশাপাশি গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে একটু বৃষ্টি হলেই শহরের বিভিন্ন এলাকার সড়কে পানি উঠছে। এতে ভোগান্তি আরও কয়েক গুণ বাড়ছে।
হাসপাতাল রোডে সরকারি ২৫০ শয্যার হাসপাতালের পাশাপাশি অর্ধশতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী, সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই রাস্তায় চলাচল করে। অথচ এই রাস্তা পুরোপুরি ভাঙা।মো. সহিদুল ইসলাম, মধুসূদনপুর এলাকার বাসিন্দা
নোয়াখালী পৌরসভা সূত্র জানায়, পৌরসভাটির আওতায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ সড়কের অবস্থা বর্তমানে বেহাল। কিছু সড়ক আগে থেকেই ভাঙা ছিল। গত বছরের বন্যা ও এ বছরের জলাবদ্ধতায় সড়কগুলো আরও ভেঙেছে।
গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাইজদীর আল ফারুক একাডেমি সড়ক, কৃষ্ণরামপুর সড়ক, হাসপাতাল সড়ক, সরকারি আবাসিক এলাকা সড়ক, জেলখানা সড়ক, পুলিশ লাইন সড়ক, ছাবিদ মিয়া সড়ক, সেন্ট্রাল রোড, আনসার ক্যাম্প সড়ক, নোয়াখালী উচ্চবিদ্যালয় সড়কসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব সড়কেই কোথাও ছোট গর্ত, কোথাও আবার রাস্তার ইটও খসে পড়ছে। রাস্তাঘাট এতটাই ভাঙা যে অনেক জায়গায় হেঁটে চলাও কঠিন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব সড়ক সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে দিনে দিনে সড়ক আরও খারাপ হচ্ছে। এতে তাঁদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে। মাইজদী হাউজিং এলাকার বাসিন্দা আসাদ উল্যাহ বলেন, গত বছর বন্যায় পুরো এলাকা এক মাস ডুবে ছিল। এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। বৃষ্টি হলেই এখন গর্তের ভেতরে পানি জমে। কোথায় পা দিচ্ছে বুঝতে না পেরে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটছে।
মধুসূদনপুর এলাকার বাসিন্দা মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, হাসপাতাল রোডে সরকারি ২৫০ শয্যার হাসপাতালের পাশাপাশি অর্ধশতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী, সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই রাস্তায় চলাচল করে। অথচ এই রাস্তা পুরোপুরি ভাঙা।
পৌরসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হিসেবে পরিচিত ছবিদ মিয়া সড়ক। এ সড়ক দিয়ে নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে লক্ষ্মীনারায়ণপুর ও নোয়াখালী সরকারি কলেজে যাতায়াত করা যায়। ওই এলাকার বাসিন্দা জুয়েল রানা প্রথম আলোকে বলেন, সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু এত বেশি গর্ত আর ময়লা পানিতে ভরা থাকে যে হাঁটাও যায় না। পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আশপাশের বাসাবাড়ির পানিও রাস্তায় জমে থাকে।
জানত চাইলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বেলাল খান প্রথম আলোকে বলেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারের জন্য এরই মধ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; কিন্তু বৃষ্টির কারণে ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারছেন না। তবে জরুরি সংস্কারের অংশ হিসেবে হাসপাতাল রোড, জেলখানা রোড এবং পুলিশ লাইনস রোডে আংশিক সংস্কার করা হয়েছে। বর্ষা শেষ হলেই সংস্কারকাজ পুরোদমে শুরু করা হবে। ভবিষ্যতে সড়কগুলো ব্লক ও পাথরের ঢালাই দিয়ে নির্মাণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।