
মাদক ব্যবসার অভিযোগে আটক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিতে গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় রামদার আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এটিএসআই) নূরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আশিকুর রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের পাশে পুলিশ ফাঁড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে মাদক ব্যবসার অভিযোগে আটক দুজন হলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের হারেছ মিয়ার ছেলে মো. আনিছ (১৮) এবং গাজীপুর সদর থানার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের চা–বাগান বাঁশতলা এলাকার সেলিম মিয়ার মেয়ে শিমলা আক্তার (২২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেলে জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মের এক কোণে আনিছ ও শিমলা ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রি করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জয়দেবপুর রেলওয়ে ফাঁড়ির পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করে। পরে তাঁদের জংশনের পাশে অবস্থিত পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুজনকে আটকের খবর পেয়ে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়। তারা আটক দুজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিলে হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এটিএসআই নূরুল ইসলাম ও কনস্টেবল আশিকুর রহমান আহত হন। পরে ফাঁড়ির অন্য পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। হামলাকারী সবাই কিশোর বয়সের বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
রেলওয়ে জংশনে মাদক ও মাদক কারবারিদের উৎপাত ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে জানান জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় থানাকে অবহিত করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফারুক হোসেন বলেন, মাদক ব্যবসার অভিযোগে দুজনকে আটক করে ফাঁড়িতে আনার পর তাঁদের ছাড়িয়ে নিতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। তারা ফাঁড়িতে ঢোকার চেষ্টা করে। দরজা বন্ধ করে দিলে তারা দরজায় আঘাত করতে থাকে। এ সময় তাদের রামদার আঘাতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঢাকা রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা দুটি মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি। একটি মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অন্যটি হামলার অভিযোগে।’
হামলাকারীদের ধরতে এরই মধ্যে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন জয়দেবপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম।