
চা-বাগানের ভেতরে খরগোশ ধরে গিলে ফেলে অজগর শাবক। কিন্তু হজম করতে পারেনি। পরে বমি করে ফেলে দেয়। স্থানীয় কয়েকজন শ্রমিক এ দৃশ্য দেখে সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা চালান। এর মধ্যে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বন বিভাগের লোকজন। পরে সাপটি উদ্ধার করে সংরক্ষিত বনে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার কাপনাপাহাড় চা-বাগান এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শী বাগানের চার শ্রমিক ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ বেলা ১১টার দিকে কাপনাপাহাড় বাগানের কয়েকজন শ্রমিক ১১ নম্বর সেকশন এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিলেন। এ সময় অজগর শাবককে খরগোশ গিলতে দেখেন। কিছু সময় দাঁড়িয়ে তাঁরা দৃশ্যটি দেখছিলেন। একপর্যায়ে সাপটি বমি করে খরগোশটি বের করে দেয়। এরপর শ্রমিকেরা অজগরটিকে পিটিয়ে মারার চেষ্টা চালান।
তখন স্থানীয় এক তরুণের কাছ থেকে মুঠোফোনে খবর পেয়ে বন বিভাগের পুঁটিছড়া বিটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মো. সাজন দ্রুত সেখানে ছুটে যান। তিনি সাপটিকে না মারতে উপস্থিত শ্রমিকদের অনুরোধ করেন। পরে তাঁদের সহযোগিতায় সাপটিকে বস্তাবন্দী করে বিট কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনাস্থলে থাকা বাগানের দুজন শ্রমিক বলেন, অজগরটি কারও ক্ষতি করতে পারে, সেই ভয়ে এটিকে তাঁরা মেরে ফেলতে চেয়েছিলেন। পরে বন বিভাগের লোকজন গিয়ে সাপটি বিষহীন জানিয়ে এটিকে না মারতে বলেন। এরপর শ্রমিকেরা সাপটিকে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করেন।
পুঁটিছড়া বিটের কর্মকর্তা মো. সাজন বেলা দুইটার দিকে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, খাবারের সন্ধানে আশপাশের বন থেকে অজগরের শাবকটি লোকালয়ে চলে যেতে পারে। খরগোশ খেয়ে হজম করতে পারেনি। এ কারণে বমি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বমির পর সাপটি দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে কিছু সময় পর আবার সুস্থ হয়ে ওঠে। এটি প্রায় পাঁচ ফুট লম্বা ছিল। পুঁটিছড়া সংরক্ষিত বনের ভেতরে একটি পাহাড়ি ছড়ায় সাপটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।