নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা দেলপাড়া এলাকায় লিটল জিনিয়াস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। গতকাল শনিবার দুপুরে
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা দেলপাড়া এলাকায় লিটল জিনিয়াস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী। গতকাল শনিবার দুপুরে

নারায়ণগঞ্জ-৪

স্কুলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে জরিমানা দিলেন মনির হোসেন কাসেমী

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট মনোনীত প্রার্থী ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসেন কাসেমী একটি স্কুলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। পরে ওই প্রার্থীর প্রতিনিধিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পাগলা দেলপাড়া এলাকায় অবস্থিত লিটল জিনিয়াস স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ অনুষ্ঠানের ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পুরস্কার বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের হাতে নির্ধারিত পুরস্কার কাচের প্লেটের পাশাপাশি দুই হাজার টাকা করে দিচ্ছেন প্রধান অতিথি মুফতি মনির হোসেন কাসেমী।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে জানান, ‘নির্বাচনী আচরণবিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বা অর্থ ও উপঢৌকন দিতে পারেন না। এটি সুস্পষ্টভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে মনির হোসেন কাসেমী প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। পুরস্কার হিসেবে বিজয়ীকে একটি করে প্লেট ও দুই হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে, সেটি আমার ব্যক্তিগত অর্থ নয়। ষড়যন্ত্র করে এই ভিডিও ছড়ানো হয়েছে।’

তবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে অনুষ্ঠান আয়োজনকারী ও প্রার্থীর প্রতিনিধি তাঁদের দোষ স্বীকার করায় প্রার্থী মনির হোসেন কাসেমীর প্রতিনিধিকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন প্রথম আলোকে জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর ১৫ (খ)-এর ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিধিমালার ২৭-এর ক বিধি অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ পরিচালনা করে দেড় লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।