বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তাঁর দুই মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের দাবিতে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ। গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শহরের মাদ্রাসা সড়কে
বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও তাঁর দুই মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের দাবিতে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ। গত বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শহরের মাদ্রাসা সড়কে

বরগুনার ডাকবাংলো থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আদালতও মামলা নেননি

বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী ও তাঁর দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের পাঁচ দিন পরও এ ঘটনায় কোথাও মামলা করতে পারেনি ভুক্তভোগী পরিবার। থানা–পুলিশ মামলা না নেওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তারা। কিন্তু মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না থাকায় মামলার আবেদন গ্রহণ করেননি আদালত। স্বজনদের ভাষ্য, বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে আইনজীবীর মাধ্যমে বরগুনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করলে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না থাকায় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী মাসুদ খান প্রথম আলোকে বলেন, মামলার সঙ্গে লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না থাকায় আদালত মামলাটি গ্রহণ করেননি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত মামলা গ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার রাতে ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বরগুনা সদর থানায় মামলা করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাঁকে বাদী না হয়ে নিহত ইতি রানীর মাকে বাদী করার পরামর্শ দেন। ভুক্তভোগী পরিবারটির সদস্যদের ভাষ্য, মামলা করতে গিয়ে তাঁরা পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। কেউ মামলা নিচ্ছে না।

ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে মামলা করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু মামলার কপির সঙ্গে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না থাকার কারণে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেননি। এখন আমার কিছু খেয়ে মারা যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না। এত ঘটনায় আদালত মামলা গ্রহণ করেন, অথচ আমাদের এই ঘটনায় আগে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন চাচ্ছে। আমরা সংখ্যালঘু, এ কারণেই এই ধরনের আচরণ কি না জানি না।’

ইতি রানীর ভাই মিত্র সরকার বলেন, ‘আমার বোন মারা গেছে, আমার ভাগনিরা মারা গেছে। এখন আমরা দিক শূন্য। গত শনিবার আমরা থানায় গেছিলাম মামলা করতে, সেখানে পুলিশ বলে যে বাদীর নাম পরিবর্তন করতে হবে। কিন্তু দুলালকে কেন মামলায় বাদী করা যাবে না। তা ছাড়া আমরা কারে বাদী করব বা না করব, সেটা তো পুলিশ বলতে পারে না। আমরা সংখ্যালঘু, এ জন্যই কি আমাদের সমস্যা? আমরা আদালতে গেলাম মামলা করতে, সেখানেও আমাদের মামলাটি নেওয়া হয়নি। বিষয়টি আমরা বুঝতে পারছি না কী হতে যাচ্ছে আমাদের সঙ্গে।’

গত বুধবার বরগুনা শহরের থানাপাড়া এলাকার জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪) ও তাঁর দুই মেয়ে আরাধ্য বিশ্বাস (১১) ও অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) লাশ উদ্ধার করা হয়। ইতি জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর অস্থায়ী কর্মচারী ছিলেন (পরিচ্ছন্নতাকর্মী)।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। যে কক্ষে ওই নারীর বড় মেয়ের মরদেহ পাওয়া গেছে, সেখানে মরদেহের পাশে ঘুমের ওষুধ ও একটি পানির বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারী পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে ডাকবাংলোয় এসেছিলেন। ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কোনো কারণে তিনি আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন। কারণ, কক্ষের দরজাই ভেতর থেকে বন্ধ ছিল।

পুলিশ সুপারের এমন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নিহত ইতি রানীর পরিবার। নিহত ইতির স্বজনদের অভিযোগ, নিহত ব্যক্তিদের সুরতহাল প্রতিবেদন এবং ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন না পাওয়ার আগেই পুলিশ সুপারের এমন বক্তব্য অনভিপ্রেত। এ ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।