নিহত
নিহত

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আবারও মাইন বিস্ফোরণে, এক তরুণ নিহত

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি সীমান্তে আজ সোমবার সকালে স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম সাইফুল ইসলাম (২৫)। আজ সকালে সীমান্তের শূন্যরেখার প্রায় ৪০০ মিটার ভেতরে মিয়ানমারের ভূখণ্ডে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। নিহত সাইফুল সেখানে বাঁশ কাটতে গিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে নাইক্ষ্যংছড়ির দোছড়ির পাইনছড়া এলাকার ছয়জন বাসিন্দা ৫২ নম্বর সীমান্তখুঁটি–সংলগ্ন শূন্যরেখা পার হয়ে মিয়ানমারের ডুইল্যাঝিরি এলাকায় বাঁশ কাটতে যান। সকাল পৌনে ১০টার দিকে বাঁশ কাটার সময় হঠাৎ মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে পাইনছড়ার সাবের আহমদের ছেলে সাইফুল ইসলামের দুই পা গোড়ালি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে উড়ে যায়। সঙ্গীরা সাইফুলকে উদ্ধার করে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে দোছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত পাইনছড়ার অবস্থান। এখানকার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এলাকাটি নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি ১১ ব্যাটালিয়নের টার্গুপাড়া সীমান্তচৌকির আওতাধীন। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) ডুইল্যাঝিরি ক্যাম্প অবস্থিত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার পর পুলিশের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাইন বিস্ফোরণের একজনের মৃত্যুর ঘটনার পর সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের স্থলমাইন বিস্ফোরণে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের জীবনযাত্রা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা স্থলমাইন জননিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে সীমান্তবর্তী জনসাধারণকে সতর্ক করা ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচল সীমিত রাখতে বিজিবির নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা দরকার।

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক জানান, মাইন বিস্ফোরণে সাইফুল ইসলামের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান। এ ঘটনার পর সীমান্ত এলাকার বসবাসকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কভাবে চলাচল করতে বলা হয়েছে।